বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -ছবি : সংগৃহীত
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা চললেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা খুবই সীমিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে প্রথমেই বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের অতীত শাসনামল নিয়ে জনসমক্ষে জবাবদিহির বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে যে আলোচনা চলছে তা বাস্তবতার চেয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য বা প্রচারণা হিসেবে বেশি দেখা যাচ্ছে।
তাদের মতে, দেশে ফিরলে শেখ হাসিনাকে প্রথমেই বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে, আর আওয়ামী লীগের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হবে অতীত শাসনামল নিয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি করা। ফলে তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে যে গুঞ্জন চলছে, তা বাস্তবতার চেয়ে রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ বলেই বেশি প্রতীয়মান হচ্ছে।
কারণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত নতুন একটি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র ৪ মাস পার হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সরকারের ভুল-ভ্রান্তি যেমন জনমনে ততটা স্পষ্ট হয়নি, তেমনি হাসিনাবিরোধী তথা গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলো এখনো তার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ আছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, দেশীয় জনমত বা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সমর্থন কোনো পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত হাসিনা বা আওয়ামী লীগের পক্ষে নেই। ফলে বর্তমান বাস্তবতায় তার ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করছেন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।
এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত তরুণ প্রজন্ম এখনো বেশ সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামীবিরোধী জনমতও দেশে বিদ্যমান। ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের যে আলোচনা হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বাস্তবতা দেখছেন না রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। বরং এ ধরনের আলোচনা অনেকাংশেই রাজনৈতিক প্রচারণা বা প্রোপাগান্ডার অংশ হতে পারে বলেও মনে করছেন তারা। যদিও কেউ কেউ মনে করেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলকে দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতির বাইরে রাখা সহজ হবে না। তবে বর্তমানে দেশে কোনো রাজনৈতিক শূন্যতা নেই। ফলে গণতান্ত্রিক জবাবদিহি, আইনের শাসন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নই দেশের রাজনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয় হওয়া উচিত।

শেখ হাসিনার দেশে ফিরে রাজনীতি করার প্রসঙ্গ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটিকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন বলে মনে করেন না সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, দেশে যে অপরাধ, দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অভিযোগ সামনে এসেছে, সেগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার। শেখ হাসিনা হোক আর যেই হোক, কোনো ব্যক্তি যদি অপরাধ করে, তিনি যত বড় রাজনৈতিক নেতা বা ক্ষমতাবানই হোন না কেন, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের লক্ষ্য কখনোই আরেক ধরনের কর্তৃত্ববাদী বা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হতে পারে না। গণতন্ত্রের নামে নতুন কোনো স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা তৈরি হলে সেটিও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি হবে।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাসকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতেই এগিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত জনগণের সংগ্রাম ও সামাজিক বাস্তবতাই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।
অন্যদিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মনে করেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বর্তমানে খুবই দুর্বল। দলের মধ্যে আত্মসমালোচনা ও পরিবর্তনের অভাব তাদের জনগণ থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কিছু আলোচনা থাকলেও সেটি মূলত দেশের বাইরে, বিশেষ করে সীমান্তের ওপারের কিছু মহল, মিডিয়া এবং আওয়ামী লীগের অবস্থানরত নেতাকর্মীদের মধ্যেই বেশি দেখা যাচ্ছে।
তবে এতবড় একটি রাজনৈতিক শক্তি একেবারে হারিয়ে যাবে এমনটা মনে করার কারণ নেই বলেও মনে করেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, দলটি যদি নিজেদের অতীতের ভুল-ত্রুটি উপলব্ধি করে তা সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারত, নতুনভাবে পরিশীলিত রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে আসতে পারত; তাহলে হয়তো মানুষ তাদের নতুন করে বিবেচনা করলেও করতে পারত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণ সে ধরনের কোনো পরিবর্তনের আভাস দেখছে না।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) রুকন উদ্দিন বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা মূলত জবাবদিহি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা কম।
তবে বর্তমান বাস্তবতায় তিনি দেশে ফিরে আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন বা ক্ষমতায় আসবেন এমন সম্ভাবনা দেখছেন না এই বিশ্লেষক।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণ প্রজন্ম এখনো সক্রিয় ও সংগঠিত রয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগবিরোধী জনমত এখনো বিদ্যমান। ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের যে আলোচনা হচ্ছে তা অনেকাংশেই রাজনৈতিক প্রচারণা বা প্রোপাগান্ডার অংশ হতে পারে।
রাজনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক শূন্যতা নেই। তাই নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তি বা ব্যক্তির আবির্ভাব দিয়ে সেই জায়গা পূরণের প্রয়োজনও দেখা যাচ্ছে না। তবে তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ একটি পুরোনো ও বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে শুধু নিষিদ্ধ বা কোণঠাসা অবস্থায় থাকলেই দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবে এমন ধারণা সঠিক নয়। দলটি ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করবে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বা দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামল নিয়ে জবাবদিহি। ওই সময়ের বিভিন্ন ঘটনা, সিদ্ধান্ত ও বিতর্ক নিয়ে জনগণের সামনে ব্যাখ্যা দিতে হবে। তবে দলটি সহজে সেই পথ বেছে নেবে বলে তিনি মনে করেন না।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় শেখ হাসিনা বা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার কোনো অনুকূল পরিস্থিতি নেই। কারণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলো এ বিষয়ে এখনো ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে।
তবে তিনি মনে করেন, এর মানে এই নয় যে আওয়ামী লীগ পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকবে। দলটি নানামুখী কৌশলে পরিস্থিতি প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে। এর মধ্যে দেশি-বিদেশি সমর্থন আদায়ের উদ্যোগ, এবং দেশের ভেতরে থাকা নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার প্রচেষ্টাও থাকতে পারে। তাই এসব বিষয় সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ ও মোকাবিলা করতে হবে।