বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার মূল কাঠামো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ঘিরে এবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের এডিপি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তালিকাভুক্ত প্রকল্পের বড় একটি অংশের কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তবতা ও পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নতুন এডিপিতে মোট ১,১০৮টি প্রকল্পের মধ্যে ১,০৬৩টি প্রকল্পে কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। পাশাপাশি বিদেশি অর্থায়নের সম্ভাবনায় আরও ১৭৯টি অননুমোদিত প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব প্রকল্প আদৌ বাস্তবায়নযোগ্য কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ অপরিহার্য। বরাদ্দ ছাড়া বিপুল সংখ্যক প্রকল্প তালিকাভুক্ত করা হলে তা কেবল কাগজে-কলমে উন্নয়নের চিত্র তৈরি করে বাস্তবে অগ্রগতি নিশ্চিত করে না।
বাজেট বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, প্রতীকী বা নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প চালু রাখার প্রবণতাও বাড়ছে। অনেক প্রকল্পে মাত্র এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হলেও কার্যত সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রসর হয় না।
এছাড়া দীর্ঘসূত্রতার চিত্রও উদ্বেগজনক। ৯৭৬টি বিনিয়োগ প্রকল্পের গড় বয়স প্রায় ৫.৭ বছর। যার মধ্যে শতাধিক প্রকল্প এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান।
উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প অনুমোদন, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এতে প্রকল্পের সংখ্যা বাড়লেও বাস্তবায়নের গতি ও গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, চলতি এডিপির প্রায় অর্ধেক প্রকল্প একাধিকবার সংশোধনের মধ্য দিয়ে গেছে যা পরিকল্পনার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকল্প গ্রহণের আগে প্রয়োজনীয়তা যাচাই, অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার কঠোর মূল্যায়ন না হলে এ ধরনের ‘কাগুজে উন্নয়ন’ আরও বাড়বে।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অনেক প্রকল্প সময়ের স্বল্পতায় পূর্ণাঙ্গভাবে প্রণয়ন করা যায়নি বলেই বরাদ্দ ছাড়াই তালিকায় রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে অর্থায়ন নিশ্চিত হলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে উন্নয়ন গবেষকদের মতে, প্রকৃত অগ্রগতি শুধু প্রকল্পের সংখ্যা দিয়ে নয় বরং বাস্তবায়নের গতি, দক্ষতা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।