বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী -ছবি : সংগৃহীত
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনায় রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাজেটকে সর্বোচ্চ মাত্রায় অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করা হয়েছে যাতে কোনো নাগরিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার বাইরে না থাকে।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সম্মেলনে’ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।
একটি প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটের প্রতিটি দিক মূলত সরকারের নীতিগত অঙ্গীকারের প্রতিফলন। বিভিন্ন নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিককে উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েই অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
করনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি কার্যকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য দক্ষ ও বিশেষজ্ঞনির্ভর নীতিনির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ। করব্যবস্থাকে শুধু রাজস্ব আদায়ের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রভাবক হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে। একইসঙ্গে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে নীতি চূড়ান্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার এমন একটি কাঠামো গড়ে তুলতে চায় যেখানে দায়িত্বের সুস্পষ্ট বিভাজন থাকবে এবং সঠিক নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন সহজ হবে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থাকা বা দীর্ঘদিন অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ লক্ষ্যেই কল্যাণমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাস্তব রূপ পায়।
সৃজনশীল অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ কারিগর, শিল্পী, ডিজাইনার, নাট্যকর্মী ও অন্যান্য সৃজনশীল পেশাজীবীদের অর্থনীতির মূল স্রোতে যুক্ত করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যের নকশা ও ব্র্যান্ডিং সহায়তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যকে বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে গ্রামীণ উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারেন।
এবারের বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতিকে কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবিষ্যতে ঐতিহ্যবাহী শিল্প, সংস্কৃতি এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণও এই কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি অর্থনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা, যা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে।
এ সময় তিনি ‘লাইফ সাইকেল অ্যাপ্রোচ’-এর কথাও তুলে ধরে বলেন, একজন নাগরিকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে মানবিক ও দায়িত্বশীল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে সৃজনশীল খাতের সম্ভাবনার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, অনেক দেশ এই খাত থেকে বিপুল বৈদেশিক আয় করছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ডের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে দেশটি নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং বিডার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।