বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান -ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি সংকটকে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ একটি প্রতিযোগিতামূলক, নিরপেক্ষ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান গন্তব্যে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়েও এগোচ্ছে দেশ।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থিতিস্থাপকতার সদ্ব্যবহার’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিনিয়োগ এবং নতুন প্রবৃদ্ধির খাত নিয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। এ নীতির আওতায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও কার্যকর করতে হবে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলে দেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল ও টেকসই করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সরকার স্বচ্ছ, টেকসই ও পূর্বাভাসযোগ্য নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য নীতির ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথাগত খাতের বাইরে অর্থনীতিকে বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সৃজনশীল শিল্প এবং ক্রীড়া খাতের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলো বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে। এসব খাতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো গেলে বিশ্ববাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
সম্মেলনে জানানো হয়, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সংলাপ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধির পথ সুগম করতে সহায়ক হবে।
সম্মেলনে তিনটি বিষয়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন (থিমেটিক প্লেনারি সেশন) আয়োজন করা হবে।
প্রথম অধিবেশন ‘দ্য পলিসি কম্পাস’ এ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নীতিগত দিক নিয়ে আলোচনা হবে। দ্বিতীয় অধিবেশন ‘ক্যাপিটাল ফর গ্রোথ’ এ বিনিয়োগ ও অর্থায়ন বিষয়ক আলোচনা হবে। তৃতীয় অধিবেশন ‘দ্য নিউ স্টেজ- এআই, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি অ্যান্ড স্পোর্টস’ এ নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি এবং উদ্ভাবননির্ভর উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সম্মেলনের লক্ষ্য হলো সরকারি সংস্থা, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তর ও টেকসই প্রবৃদ্ধির এজেন্ডাকে গতিশীল করা।