বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালীর সংকট সত্ত্বেও বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে। তার দাবি, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার চাপের মধ্যেও দেশের জ্বালানি চেইনে কোনো ঘাটতি হয়নি।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব বলেন।
মন্ত্রী জানান, কাতার ও সৌদি আরবের সঙ্গে থাকা কিছু জিটুজি চুক্তিতে ফোর্স মেজর পরিস্থিতি তৈরি হলেও সরকার দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ নিশ্চিত করেছে। এই সময়ে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের তেল ক্রয় করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
টুকু বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে। আইপিপি থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে সরবরাহ করায় আর্থিক গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি জানান, দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বাপেক্সকে পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে যৌথভাবে কাজের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ইউরোপীয় বাজারে রপ্তানি পণ্যের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ক্যাপাসিটি চার্জ ইস্যু পর্যালোচনায় রয়েছে এবং আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলে বিদ্যুৎ সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও পরিকল্পনাগত দুর্বলতা রয়েছে। কিছু প্রকল্প অসম্পূর্ণ থাকায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক পাওয়ার প্ল্যান্ট যথাযথভাবে মেরামত বা মেইনটেনেন্স করা হয়নি বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে হয়েছে, যা ভোক্তার কাছে কম দামে বিক্রি করায় বড় ধরনের আর্থিক গ্যাপ তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া দায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে টুকু জানান, এসব ক্যাপাসিটি চার্জ ও চুক্তিগত জটিলতা নিয়ে ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে এবং তাদের ফেভারেবল অপিনিয়ন পাওয়া গেলে আইনগত কাঠামোর মধ্যেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে রাষ্ট্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম ও পরিকল্পনাগত ঘাটতি দেখা গেছে, যার মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ডিজিটাল মিটার প্রকল্প অন্যতম। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ লাখ মিটার অর্ডার দেওয়া হলেও তার একটি বড় অংশ এখনো ব্যবহার হয়নি এবং গুদামে পড়ে আছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
ডিপিডিসির প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে টুকু বলেন, ৬৫টি সাবস্টেশন নির্মাণের লক্ষ্য থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ৩৮টি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অনেক প্রকল্প এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একইভাবে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পেও অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, ফলে এসব খাতে বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে টুকু বলেন, শাহবাগ এলাকার পেছনে টুইন টাওয়ারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হলেও এসব প্রকল্পের আয় কাঠামো ও অর্থনৈতিক যুক্তি দুর্বল ছিল। ফলে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় হলেও সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত প্রফিট বা রিটার্ন পাওয়া যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।