বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান -ছবি : সংগৃহীত
দেশের ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যাংকটির কার্যক্রম বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং মূলধন শক্তিশালী করার উদ্যোগও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর জানান, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের ব্যাংকিং খাত নানা সংকটের মুখোমুখি ছিল। অতীতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে ব্যাংক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। এ অবস্থা মোকাবিলায় প্রথমে খাতটিকে স্থিতিশীল করা এবং পরে পুনঃমূলধনীকরণের মাধ্যমে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে সুশাসন নিশ্চিতের পাশাপাশি গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ছড়ানো গুজব প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, এসব তথ্যের বাস্তবভিত্তি নেই। ব্যাংকের কার্যক্রম কোথাও স্থবির হয়নি এবং কোনো ধরনের অনিয়মতান্ত্রিক হস্তক্ষেপও করা হয়নি। বরং নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়েছে।
মো. মোস্তাকুর রহমান আরও বলেন, চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর দ্রুত নতুন নেতৃত্ব নিয়োগ দিয়ে বোর্ডের কার্যক্রম সচল করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকের সেবাপ্রদান এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
তিনি জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাধীন পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার একীভূত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রযুক্তিগত সমন্বয় দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব ধরনের সহায়তা দেবে, যাতে আমানতকারীদের কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়।
আমানতকারীদের উদ্দেশে গভর্নর বলেন, অর্থ উত্তোলনে কোনো গ্রাহক বাধার মুখে পড়বেন না এবং ব্যাংকের আমানত পরিস্থিতিও স্থিতিশীল রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের (এমএফআই) আমানত ফেরতের প্রক্রিয়াও শিগগির শুরু হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে। ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন গভর্নর।