বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মির্জা নূরুল হুদা, এম সাইফুর রহমান ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী- ছবি : সংগৃহীত
প্রায় বিশ বছরের বিরতির পর আবারও জাতীয় বাজেট প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য বাজেটের আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশের বাজেট ইতিহাসে বিএনপির নাম উচ্চারিত হলে সর্বাগ্রে আসে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের নাম। অর্থনৈতিক সংস্কার, করব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রসারে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জাতীয় সংসদে সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট উপস্থাপনের কৃতিত্বও রয়েছে তার ঝুলিতে।
২০০৬ সালের জুনে বিএনপি সরকারের শেষ বাজেট পেশ করেছিলেন এম সাইফুর রহমান। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাজেট প্রণয়ন হলেও বিএনপি সরাসরি এ দায়িত্বে ছিল না।
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বিএনপির বাজেট যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সালের মধ্যে তিনি ধারাবাহিকভাবে তিনটি বাজেট উপস্থাপন করেন। পরবর্তীতে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা নূরুল হুদা, যিনি ১৯৭৯-৮০ অর্থবছরের বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেন।
এরপর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে আসেন এম সাইফুর রহমান। তিনি প্রথম বাজেট পেশ করেন ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে। পরে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে পুনরায় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেন।
ভ্যাট ব্যবস্থা চালু, বাণিজ্য খাতের উদারীকরণ এবং বাজারভিত্তিক বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা প্রবর্তনের মতো বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত তার আমলেই বাস্তবায়িত হয়। এসব পদক্ষেপ দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে নতুন ভিত্তি দেয় বলে অর্থনীতিবিদদের অনেকে মনে করেন।
২০০৬-০৭ অর্থবছরের বাজেট ছিল এম সাইফুর রহমানের ১২তম ও শেষ বাজেট। এর মাধ্যমে তিনি জাতীয় সংসদে সর্বাধিকবার বাজেট উপস্থাপনের রেকর্ড গড়েন।
পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি মোট ১২টি বাজেট উপস্থাপন করলেও এম সাইফুর রহমানই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে একটি বৃহৎ আকারের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় দুই দশক পর আবারও বিএনপি সরকারের সরাসরি বাজেট প্রণয়নের অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
স্বাধীনতার পর দেশের মোট বাজেটের হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট যুক্ত হলে বিএনপির উপস্থাপিত বাজেটের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭টিতে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে উপস্থাপিত বাজেটের সংখ্যা ২৫টি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সংখ্যার হিসেবে অন্য দল এগিয়ে থাকলেও বাজেট সংস্কার ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে এম সাইফুর রহমানের অবদান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।