বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বড় অঙ্কের ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি ঋণ ও ব্যাংকিং খাত থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে সম্ভাব্য ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশই বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণের মাধ্যমে পূরণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মোট ঘাটতির একটি বড় অংশ বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ধার নেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
সরকারের আশা, নতুন অর্থবছরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি বৈদেশিক অর্থায়ন প্রবাহ বাড়াতে সহায়তা করবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
অর্থায়ন কাঠামো অনুযায়ী, ঘাটতির প্রায় অর্ধেক বিদেশি উৎস থেকে এবং বাকিটা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের মধ্যে ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে চলতি অর্থবছরের অভিজ্ঞতা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজেটে বৈদেশিক ঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, বাস্তবে তার তুলনায় অনেক কম অর্থ ছাড় হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক অর্থদাতাদের শর্ত পূরণে বিলম্বের কারণে প্রত্যাশিত অর্থায়ন পাওয়া যায়নি।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি ফিরলে বৈদেশিক ঋণ প্রবাহও বাড়বে।
এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাজেট সহায়তার আশ্বাসও পেয়েছে সরকার।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে শুধু ঋণের ওপর নির্ভর করে বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা করা টেকসই সমাধান নয়।
তিনি বলেন, সরকারের পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি ছাড়া ঋণের চাপ কমানো সম্ভব হবে না।
অন্যদিকে অর্থনীতি বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ব্যাংকিং খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ফলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সরকার বড় অঙ্কের ঋণ নিলে ব্যাংকগুলোর তহবিলের একটি অংশ সরকারি খাতে চলে যায় ফলে উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে। অর্থনীতিতে এই পরিস্থিতিকে ‘ক্রাউডিং আউট’ প্রভাব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজেট বাস্তবায়নের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা, রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর।
অন্যথায় ঘাটতি অর্থায়নের চাপ সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।