বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। দেশের অনেক অঞ্চলে এখন তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। যা শক্তিশালী এল নিনো প্রভাবে আরও প্রকট হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা সহ ৪০টি জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ চলছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষার্ধে শক্তিশালী এল নিনো সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, বৃষ্টিপাতের অভাব, খরা, ফসলহানি, পানির সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়, ঢাকায় সর্বোচ্চ ৩৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুন মাসে দুই থেকে তিনটি মৃদু বা মাঝারি তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এল নিনোর প্রভাবে বর্ষা বিলম্বিত হতে পারে, বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে এবং কৃষি উৎপাদন বিপর্যস্ত হতে পারে। খরা ও তাপপ্রবাহ বিশেষ করে রাজশাহী, দিনাজপুর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের জন্য বড় ঝুঁকি। দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হলে কৃষকদের সেচের খরচ বেড়ে যাবে এবং ভূগর্ভের পানির স্তর দ্রুত কমে যাবে।
জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বাড়ছে। তাপপ্রবাহের কারণে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, কিডনির সমস্যা ও হৃদরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী এবং শ্রমজীবী মানুষের ওপর।
তবে বাংলাদেশের প্রস্তুতি সীমিত। তাপপ্রবাহকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। ফলে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা, বাজেট বা সহায়তা কাঠামো তৈরি হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আশ্রয়কেন্দ্র, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে অভিযোজন, নগর পরিকল্পনায় তাপ সহনশীল ব্যবস্থা ও সচেতনতামূলক প্রচারণা জরুরি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানিয়েছেন, দেশের শহর ও উপকূলীয় এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন বাড়ানো হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।