বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন -ছবি: সংগৃহীত
ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া গণমুখী উদ্যোগগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছে এবং জনগণের প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও জবাবদিহিতাহীন সংস্কৃতি একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে এবারের ঈদে দেশের মানুষ রাষ্ট্রের আন্তরিকতা, জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ এবং প্রশাসনিক তৎপরতার বাস্তব প্রতিফলন প্রত্যক্ষ করেছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপনের নির্দেশ দেন, যাতে তারা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের তিন মাস পূর্ণ হয়েছে। সময়ের হিসেবে এটি সংক্ষিপ্ত হলেও জনগণের প্রতি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সরকার স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং জনগণকেই সরকারের কার্যক্রমের প্রধান বিচারক হিসেবে বিবেচনা করছে।
সরকার ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান মাহদী আমিন। এসব উদ্যোগের মধ্যে ছিল—
সরকারি ছুটি বাড়ানো, মহাসড়কে বিশেষ নজরদারি এবং সমন্বিত ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অতীতের তুলনায় দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তি কম ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাগুলোকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আশ্বাস দেন মাহদী আমিন।
তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতন ও বোনাস পরিশোধে সরকার, ব্যাংক ও শিল্পমালিকদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
এর ফলে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা কমেছে এবং শ্রমিকরা আর্থিক স্বস্তি নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে পেরেছেন বলে দাবি করা হয়।
অবৈধ পশু প্রবেশ রোধ এবং দেশীয় খামারিদের সুরক্ষায় কঠোর নজরদারি চালানো হয়। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি ছিল এবং দেশ প্রথমবারের মতো কোরবানির পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।
ঢাকা ও অন্যান্য শহরে ঈদের দিন থেকেই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। অধিকাংশ এলাকায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শন এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও তুলে ধরা হয়।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধ, নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের ভাড়া ছাড় এবং লঞ্চঘাটে হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
পশুবাহী যানবাহন ও পশুর হাটে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ছিল বলে দাবি করা হয়। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
ঈদের ছুটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। গরমের মধ্যেও অধিকাংশ এলাকায় লোডশেডিং কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি সারাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের নামাজ ও উৎসব উদযাপনের বিষয়টিকে সরকারের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়।
চামড়ার ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ, লবণের সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে চামড়া নষ্ট হওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় কমেছে বলে দাবি করা হয়।
চাল, ডাল, তেল, চিনি ও মসলাসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ থাকা সত্ত্বেও খুচরা বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় তিন মাসে দূর করা সম্ভব নয়। তবে জনগণ এবার উপলব্ধি করেছে যে রাষ্ট্র তাদের প্রতি সংবেদনশীল এবং প্রশাসন জনসেবার মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, গণমানুষের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য দেন। এছাড়া উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।