বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

রোববার সকালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বক্তব্য রাখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ -ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরকে আর কোনোভাবেই অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি জানিয়েছেন, এলাকায় অবৈধ দখলদারদের তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং অপরাধ দমনে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
রোববার সকালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে বসবাসকারী প্রকৃত স্থানীয় অধিবাসীদের কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না। বরং তাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এই আলীনগর-জঙ্গল সলিমপুর, এই জায়গাটা আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসীদের এলাকা থাকবে না, অভয়ারণ্য থাকবে না। এর আশেপাশে দুইটা পাহাড় টিলা শ্রেণী আছে-একটা হচ্ছে বেতুয়া আরেকটা চা-বাগান।
এই এরিয়াতেও সন্ত্রাসীদের আনাগোনা আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সেখান থেকেও তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে।
তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছেন তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হবে। তবে অবৈধ দখল ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জানান, জঙ্গল সলিমপুরকে কেন্দ্র করে সরকারের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর প্রকল্পের বিষয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের বিষয়টিও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি জানান, শুধু জঙ্গল সলিমপুর নয় সারাদেশে চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, কেউ যদি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখায় বা চাঁদা দাবি করে, তাহলে সরাসরি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করুন। অপরাধী যত প্রভাবশালী হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভূমিপ্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, র্যাব-৭ এর অধিনায়ক, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশ নিতে রওনা দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।
এরপর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রশাসন। একই সঙ্গে আলীনগর এলাকায় একটি অস্থায়ী যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
সর্বশেষ গত ২৪ মে গভীর রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের নেতৃত্বে কয়েকশ সশস্ত্র ব্যক্তি ভারী বুলডোজার নিয়ে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ক্যাম্পের দেয়াল ভেঙে ফেলে এবং বাহিনীর চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে অভ্যন্তরীণ সড়ক কেটে গর্ত তৈরি করে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী গুলিবিনিময়ের পর তারা পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ২৬ মে সীতাকুণ্ড থানায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং প্রায় ৩০০ অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরকে আর কখনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।