বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

গাবতলী পশুর কাদায় ভরে গেছে -ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। তবে টানা বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এসব হাট এখন কাদা-পানিতে একপ্রকার অচল হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খামারি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা।
রাজধানীর গাবতলী, আফতাবনগর, মেরাদিয়া, শ্যামপুর ও উত্তরার অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে বৃষ্টির প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও জমে থাকা পানি—ফলে পশু নামানো থেকে শুরু করে পরিচর্যা ও বেচাকেনা পর্যন্ত সব কার্যক্রমে ধীরগতি নেমে এসেছে।
খামারিদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করা পশু নিয়ে হাটে এলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ক্রেতা কমে গেছে। এতে কাঙ্ক্ষিত দামে বিক্রি না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গাবতলী হাটে দেখা যায়, অনেক স্থানে বৃষ্টির পানি জমে ছোট ছোট জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাক থেকে নামানো গরুগুলোকে কাদার মধ্যেই দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাঁশ, খড় ও প্লাস্টিক দিয়ে অস্থায়ী উঁচু মাচা তৈরির চেষ্টা করলেও টানা বৃষ্টিতে সেগুলোও টিকছে না।
নাটোর থেকে আসা খামারি জামাল বলেন, বৃষ্টির কারণে গরুগুলো ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে পারছে না। খাবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে কাদার কারণে ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দ্যে পশু দেখতে পারছেন না, ফলে বিক্রি কমে গেছে।
মেহেরপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী রফিক জানান, গরু পরিবহনেই বড় অঙ্কের খরচ হয়েছে। এখন কয়েকদিন হাটে অবস্থান করতে হলে খাবার ও শ্রমিক ব্যয় আরও বাড়বে। বৃষ্টি থাকায় ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু ব্যবসায়ী বা খামারিরাই নন হাটে আসা সাধারণ ক্রেতারাও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে কাদাময় পরিবেশে চলাচল কঠিন হয়ে উঠেছে।
গাবতলীতে পশু দেখতে আসা এক ক্রেতা সোহেল বলেন, হাটে ঢুকেই কাদা ও পানির কারণে হাঁটা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় দাঁড়ানোই যাচ্ছে না, ফলে ভালোভাবে পশু দেখাও সম্ভব হচ্ছে না।
আরেক ক্রেতা জানান, বৃষ্টির কারণে পশুগুলোও অস্বস্তিতে রয়েছে। কিছু গরুকে কাঁপতেও দেখা গেছে, যা পশুর স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
হাট সংশ্লিষ্টদের মতে, অধিকাংশ অস্থায়ী পশুর হাট খোলা মাঠে বসানো হওয়ায় টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা ও জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
ইজারাদারদের পক্ষ থেকে পানি সরানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাস্তবে সেই ব্যবস্থা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। লাখ লাখ টাকার পশু নিয়ে হাটে এলেও পশু রাখার মতো শুকনো পরিবেশ নেই বলেও অভিযোগ করেন তারা।
পশু চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘসময় ভেজা ও কাদাযুক্ত পরিবেশে থাকলে গবাদিপশুর বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে খুরে ঘা, ঠান্ডাজনিত সমস্যা ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া ভেজা পরিবেশে খাবার নষ্ট হলে হজমজনিত সমস্যাও হতে পারে।
তবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের চিকিৎসক হুমায়ুন কবির জানান, অতিরিক্ত গরমের তুলনায় ঠান্ডা আবহাওয়া গরুর জন্য তুলনামূলক ভালো। এতে গবাদিপশু শান্ত থাকে এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। তবে হাটে আনার পর পশুকে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পশুর হাটে দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।