বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা -ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে আগামী পাঁচ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সোমবার ঢাকায় সফররত এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা এ ঘোষণা দেন।
এই অর্থ ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ কর্মসূচির আওতায় ব্যয় করা হবে। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
এডিবি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে এই সহায়তা দেওয়া হবে। অর্থাৎ প্রতি বছর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন পাবে বাংলাদেশ। এটি এডিবির চলমান সার্বভৌম অর্থায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুক্ত হবে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশে তাদের বার্ষিক সার্বভৌম অর্থায়নের পরিমাণ ২০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার থেকে ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে।
ঢাকা সফরকালে এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক সংস্কার, বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।
মাসাতো কান্দা বলেন, বাংলাদেশ এখন নতুন এক অর্থনৈতিক পর্যায়ে প্রবেশ করছে এবং এডিবি দেশটিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
এডিবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, এলএনজি, সার ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এতে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
একই সঙ্গে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা বাড়িয়েছে এডিবি।

এ ছাড়া ২০২৬ সালের প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে। এসব অর্থ জ্বালানি, পরিবহন, জলবায়ু সহনশীলতা ও সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।
এডিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বেসরকারি খাতকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পুঁজিবাজার উন্নয়ন, বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প প্রস্তুত এবং যৌথ অর্থায়ন সম্প্রসারণে সরকারকে সহায়তা করা হবে।
সংস্থাটি মনে করছে, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে সহায়ক হবে।