বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে। এই নির্বাচনে সহিংসতা ও রক্তপাত বন্ধ করাই হবে কমিশনের মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল)-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সিইসি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনেক এলাকায় সংঘাত ঘটেছে। শুধু প্রাণহানি নয় বিপুলসংখ্যক মানুষ আহতও হয়েছেন। আমরা চাই এটি আর যেন না ঘটে।
তিনি আরও বলেন, রক্তপাতমুক্ত নির্বাচনের আয়োজন আমাদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করব। সবাইকে একত্রিত করে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার চেষ্টা চালানো হবে।
আমরা কোনো রক্তপাত চাই না। রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমরা দিতে চাই।
এ বিষয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে চায় ইসি। বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চালু করবে সংস্থাটি। পাশাপাশি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অতীতের সহিংসতার তথ্য তুলে ধরেন সিইসি। তিনি বলেন, গণমাধ্যম ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২৩৬ জন নিহত হন। এ ছাড়া আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রাণ হারান ১১৬ জন।
তিনি বলেন, আমাদের চেষ্টার কোনো ঘাটতি থাকবে না। গণতন্ত্র শুধু জাতীয় পর্যায়ে হলে হয় না, তৃণমূলের গণতন্ত্র আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইউপি সদস্যরা সরাসরি মানুষের সেবার সঙ্গে জড়িত। গণতান্ত্রিক সরকারের সেবাগুলো স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছায়। তাই স্থানীয় সরকার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
দলীয় সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসি চাপ বোধ করবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, নির্বাচনের জন্য সরকার মূল অংশীজন। তাদের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব হয় না। কারণ, সরকারের সব এজেন্সিকে আমরা কাজে লাগাই। পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসনসহ সব সরকারের লোক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছ থেকে যে সহযোগিতা চেয়েছি তা তারা দিয়েছিলেন।
নির্বাচনের সফলতার জন্য তাদের অবদান অবশ্যই আছে। গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে সে উদাহরণ আমরা সৃষ্টি করতে পারব। কারণ রাজনীতিবিদেরা দেশের কথা চিন্তা করেন, মঙ্গলের জন্য কথা চিন্তা করেন। তাই সবাই মিলে আমরা ভালো নির্বাচন দিতে পারব।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এ সরকারের অধীনে তো আমরা কোনো নির্বাচন করিনি। তাই এ নিয়ে আগাম কোনো মন্তব্য করা যায় না। আমাদের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দেশে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং প্রায় ৩৩০টি পৌরসভা রয়েছে। এসব পর্যায়ের নির্বাচন আয়োজন একটি বিশাল দায়িত্ব। এখানে সহযোগিতা আরও বেশি প্রয়োজন।
জাতীয় নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, এ নিয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে চাই না। কারণ সর্বোচ্চ আদালতে ২টি মামলা (চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসন) বিচারাধীন আছে। তবে আমরা কারও প্রতি দয়া দেখাইনি।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে কোথায় কোথায় আমাদের উন্নতি করতে হবে তা চিহ্নিত করছি। কারণ নির্বাচন কমিশন দু’টো জাতীয় নির্বাচন করতে পারে না। তারা একটা নির্বাচন করে বিদায় হয়ে যায়। নতুন কমিশন এসে নতুন করে শুরু করে। তাই তাদের জন্য নির্বাচনের অভিজ্ঞতা রেখে দিতে চাই। আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো কী ছিল, তাদের কোথায় উন্নতি করতে হবে? এগুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকবে।
সিইসি আরো বলেন, আমরা অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলব। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের সমর্থন খুবই দরকার। তাদের সমর্থন ছাড়া সংঘাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন করা সম্ভব না।
কারণ ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংঘাত হয়েই থাকে। জাতীয় নির্বাচন যেহেতু সংঘাতমুক্ত করা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তা পারব, সে আত্মবিশ্বাস আছে। কমিশন সে চেষ্টা করবে। ইসি কারও পক্ষেও না, কারও বিপক্ষেও না। আমরা সবার জন্য সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই।
তিনি বলেন, এদেশের কীসে মঙ্গল, কীসে ভালো তা নিয়ে সর্বক্ষণ আমাকে ভাবায়। আমি সিইসি না হলেও বাসায় বসে তা চিন্তা করতাম। এ নিয়ে অনেক লেখালেখি করেছি। যে কোনো পরিস্থিতিতে দেশের মঙ্গল চিন্তা করি আমি।
নির্বাচন প্রক্রিয়াটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, আমি চাচ্ছিলাম নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতাটা যাক। জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতাটা যাক। তাদের পরিস্থিতি সামলাতে দিন। কারণ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বছরের পর বছর চলবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক সরকার আসতেই হবে। যার মাধ্যমে সবকিছু করা সম্ভব হয়। দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
এ সময় ইসি সচিব আখতার আহমেদ ও আয়োজন সংগঠনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।