বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -ছবি : সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরে নিয়মিত বিমান চলাচল শুরু হবে। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী এবং বিমানমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় জেলা বিএনপির আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁও ও বগুড়া বিমানবন্দর প্রকল্প ইতোমধ্যে পরিকল্পনা বিভাগের 'গ্রিন পেইজে' অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই উন্নয়নকাজ শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণকে হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেএসময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা), প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, একই মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ধর্মনিরপেক্ষ ও উদারপন্থী বাংলাদেশের ধারণা তুলে ধরেন যেখানে সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে বসবাস করবে। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।
তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করে বলেন, জামায়াত কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তারা স্বাধীনতাবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের পক্ষে ছিল এবং জনগণ তাদের কখনো ক্ষমতায় আনবে না।
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরাঞ্চলের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। একই সঙ্গে সদর উপজেলাকে ভেঙে দুটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলা পর্যায়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদনও পাওয়া গেছে।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কখনো সংস্কারের বিরুদ্ধে নয়। বরং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ধর্মের নামে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী ফায়দা নিতে চায়। তিনি বলেন, ধর্মের নামে মিথ্যাচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে রাজনীতি করা যাবে না। জনগণের ভোট ও মর্যাদা পেতে হলে সত্য কথা বলতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ কখনো জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না।
জামায়াতের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, মা-বোনদের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে। তাই এদেশের মানুষ তাদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) বলেন, তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ না করে স্থায়ী ও কার্যকর অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। এমনভাবে করতে চাই না যে, দুদিন পর আবার বন্ধ হয়ে যায়। আমরা স্থায়ী বন্দোবস্ত করতে চাই। তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে ওয়াদা করে গেলাম, সেটা রক্ষা করতে চাই। যত দ্রুত সম্ভব বিমানবন্দর চালুর জন্য দিনরাত পরিশ্রম করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যেই বিমানবন্দরটির কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করা হবে।
এর আগে সকালে ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ছাদ ঢালাই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আমি সব সময় আপনাদের বলেছিলাম এটি আমার শেষ নির্বাচন। আমি আবারও বলছি, এটি হয়তো আমার শেষ নির্বাচন। নির্বাচনের আগে আমি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছি সেগুলো রক্ষা করতে চাই।
তিনি এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমি আপনাদের এই এলাকার সন্তান। আপনারা আমাকে কখনো বিমুখ করেননি। যতবার আপনাদের সামনে এসেছি, আপনারা আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন।
অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি জানান, সদর উপজেলাকে ভেঙে আরও দুটি নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়ে সরকারের অনুমতি পাওয়া গেছে। এছাড়া জেলার দীর্ঘদিনের দাবি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদনও মিলেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব দ্রুত এসব প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁওয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর ঘোষণা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ধারণা, বিমানবন্দর চালু হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।