বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাহিনীর অবদান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আনসার-ভিডিপি শুধু তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করছে না, বরং বিভিন্ন প্রযুক্তি ও দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা, শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় এ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলসহ দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম ও শহরে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনসার বাহিনী বিভিন্ন দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে ফার্স্ট রেসপন্ডার হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। বন্যা, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে এ বাহিনী দৃষ্টান্তমূলক সাহসিকতা প্রদর্শন করেছে। পাশাপাশি, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ যেমন রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল ও বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনেও তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, আনসার-ভিডিপি ভবিষ্যতে একটি ‘প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক সামাজিক বাহিনী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। বাহিনীর সদস্যরা শুধুমাত্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন না বরং ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ ও সিক্স-জি ওয়েল্ডিংয়ের মতো আধুনিক দক্ষতায় প্রশিক্ষিত হয়ে দেশের মধ্যে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করছে।
আনসার-ভিডিপির ১৩ হাজারের বেশি ফ্রিল্যান্সিং ও ভিডিপি সদস্য সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ও শান্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রধানমন্ত্রী বাহিনীর চারটি প্রধান স্তম্ভের গুরুত্ব তুলে ধরেন ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা/উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি। বর্তমানে ৪৭টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত। এছাড়া ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও শিল্পকারখানায় নিরাপত্তা দিচ্ছে। বাহিনী বাল্যবিবাহ রোধ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও নগর নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল বিশেষ গুরুত্ববহ। তিনি জানান, ‘সঞ্জীবন প্রকল্পের’ মাধ্যমে গ্রামভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি করা হচ্ছে। আনসার-ভিডিপির ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে জামানতবিহীন ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। এভিজবস (আনসার অ্যান্ড ভিডিপি জব পোর্টাল) ও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশীয় ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাহিনী সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নিয়ে আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট বিদেশে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনসার-ভিডিপির অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ গেমসে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে বাহিনী স্বাধীনতা পদক অর্জন করে। দেশের ১০টি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নিরাপত্তায় ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার মোয়েন করা হয়েছে। বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের জন্য স্পোর্টস কার্ড ও বেতন কাঠামো চালু করেছে যার আওতায় আনসার-ভিডিপির ১৫ জন ক্রীড়াবিদও উপকৃত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনিক সংস্কার সম্পর্কেও বলেন, আনসার ব্যাটালিয়ন বিধিমালা ২০২৬, ভিডিপি প্রবিধানমালা ২০২৬, অঙ্গীভূত আনসার বিধিমালা ২০২৬ প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম শক্তিশালী করতে উপজেলা আনসার প্রবিধানমালা ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সদর দপ্তরে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার একটি দৃষ্টান্ত।
প্রধানমন্ত্রীর মতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ও গতিশীল বাহিনী হিসেবে দেশের কল্যাণে কাজ করবে। শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাহিনী একটি সুশৃঙ্খল, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।