বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষিত বেকার কমাতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নতুনভাবে সাজানোর সময় এসেছে। তিনি ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরটি তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সফর যা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার উন্নয়নের প্রতি সরকারের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধা পাচার নয়, মেধা লালন করেই সরকার ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধুমাত্র পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থান যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হবে ফলে শিক্ষিত বেকারত্ব বাড়বে।
তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনও প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছায়নি। এই অবস্থার পরিবর্তন সময়োপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে সম্ভব।
তারেক রহমান জানান, প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম পুনর্গঠন করা হচ্ছে। নতুন কারিকুলামে থাকবে: হাতের-কলমে শিক্ষার সুযোগ (hands-on learning),অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ও ইন্টার্নশিপ, স্থানীয় শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষার্থী অবস্থাতেই দক্ষতা অর্জন করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এ সরকার বর্তমান এবং ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শুরু করতে চায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার এটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ গড়ার কাজ শুরু করতে চায়।

উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না পারাই এর প্রধান কারণ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম নতুনভাবে সাজানো সময়ের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন। নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন এবং সময়োপযোগী শিক্ষা ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয় জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ ইতোমধ্যে হাতে নিয়েছে।
উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে সরকার অ্যাপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করা হবে।
এর ফলে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি হাতে-কলমে শিক্ষা লাভ করে শিক্ষার্থী অবস্থাতেই কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারবে। এছাড়া ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে সরকার সিড ফান্ডিং ও ইনোভেশন গ্র্যান্ট প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে ক্যাম্পাস থেকেই নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়।
সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং সায়েন্স পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিজ্ঞান মেলা ও ইনোভেশন ফেয়ারের মতো আয়োজনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই সময়ে এআই, রোবটিক্স এবং ন্যানো টেকনোলজির মতো প্রযুক্তি একদিকে প্রথাগত চাকরির বাজারে বেকারত্ব বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ভিন্ন ধরনের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে।
সরকারপ্রধান বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ার কাজ শুরু করতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতায় যাতে রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক, নৈতিক মূল্যবোধ যাতে হারিয়ে না যায় সে ব্যাপারে সকলকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
ফ্যাসিবাদ বিদায়ের পরে নতুন বাংলাদেশ গড়তে তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষার কার্যকর বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক বলেও জানান তারেক রহমান।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনও উপস্থিত আছেন।
যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার দুই দিন পর গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যান তারেক রহমান। সেদিন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন তিনি। এর সাড়ে চার মাস পর সেখানে গেলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত কর্মশালায় সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
কর্মশালায় উপস্থিত আছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান।