বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশ বাহিনীকে জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ এই স্লোগানকে কেবল মুখে রাখলে হবে না, বরং প্রতিটি কর্মকাণ্ডে এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং মানবাধিকার সমুন্নত রেখে 'প্রিভেন্টিভ পুলিশিং'-এর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অপারেশনাল কার্যক্রম ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়াতে পুলিশে বডি ওন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তদন্ত ও অপারেশনসহ পুলিশের সমস্ত কার্যক্রম রেকর্ডেড রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে এসে আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধের পূর্বানুমান এবং তা প্রতিরোধের ওপর জোর দেন তিনি।
জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী নূন্যতম বলপ্রয়োগ নীতির বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দক্ষ পেশাদার অফিসার। তবে মনে রাখতে হবে মানবাধিকারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ মানবাধিকার সমুন্নত রেখেই কৌশলে অপরাধ দমন ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি।
মহাসড়ক, নৌপথ, শিল্পাঞ্চল ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মতো স্পর্শকাতর স্থানে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএন, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যৌথ অপারেশনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে।
ব্যক্তিগত সততা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। শৃঙ্খলার সাথে কোনো আপস করা হবে না।’ যারা চেইন অফ কমান্ড ভঙ্গ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি থানায় আগত সেবাপ্রার্থীরা যাতে হয়রানি ছাড়া আইনি সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
বর্তমান যুগের ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে একটি পৃথক সাইবার ক্রাইম ইউনিট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, একজন অ্যাডিশনাল আইজিপির নেতৃত্বে এই সেপারেট ইউনিট কাজ করবে। এছাড়া বিদ্যমান সাইবার আইনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
র্যাবের আইনি কাঠামোর পরিবর্তন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট আইনের অভাব এবং স্বচ্ছতার সংকটে রয়েছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে র্যাবের জন্য আলাদা লেজিসলেশন বা আইন চূড়ান্ত করা হবে, যেখানে অথরিটি ও রেসপন্সিবিলিটির পাশাপাশি অ্যাকাউন্টেবিলিটি এবং ট্রান্সপারেন্সি নিশ্চিত করা হবে।
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে দুটি বড় পুলিশ একাডেমি এবং একটি অত্যাধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা তুলে ধরেন মন্ত্রী। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় হাসপাতালসহ বিভাগীয় হাসপাতালগুলোর আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনে বড় বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করার কথা জানান তিনি।