বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। চলতি বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বড় এই বাজেটের পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ৭ জুন বাজেট উপস্থাপন করবেন। সরকারের লক্ষ্য কেবল অর্থনীতিতে গতি ফেরানো নয় বরং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর ও ভ্যাট নীতি সংশোধন, আমদানি শুল্ক বাজারভিত্তিক করা এবং কর ফাঁকির হ্রাসের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো হবে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইতিমধ্যেই বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় বাস্তবায়ন করতে রাজস্ব সংগ্রহ সক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য।
সামাজিক নিরাপত্তা: সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানো
সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিস্তারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ড: সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৪১ লাখ করা হবে।
কৃষক কার্ড: কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা।
বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা: বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং জটিল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের এককালীন সহায়তা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব।
অর্থমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের উপর মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
জ্বালানি সংকট সরকারকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে যা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের ব্যয় বাড়াচ্ছে।

সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি বরাদ্দ রাখছে। কৃষি খাতে সারের ভর্তুকিও অব্যাহত থাকবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি সংকট না সমাধান করলে শিল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উন্নয়ন ব্যয় প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:
স্বাস্থ্য: হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন: প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ।
অবকাঠামো: সড়ক, স্থানীয় সরকার ও পরিবহন খাতের উন্নয়ন।
সরকার উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে জোর দিচ্ছে। উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো:
মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম: নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ বৃদ্ধি।
রাজস্ব ঘাটতি: অতিরিক্ত ব্যয় এবং রাজস্ব আহরণের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন।
ঋণনির্ভরতা: অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে।
বৈদেশিক পরিস্থিতি: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও তেলবাজারের ওঠানামা।
সরকার বলছে, শুধু বড় বাজেট ঘোষণা যথেষ্ট নয়; এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দেশের অর্থনীতিকে সংকটমুক্তি ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সরকার আশা করছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে। তবে রাজস্ব সংগ্রহ, ঋণনির্ভরতা এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতা বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।