বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

জাতীয় ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা সরকারের: জ্বালানিমন্ত্রী নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ১৩: ৫০ ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা সরকারের: জ্বালানিমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপো’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু -ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, রাজধানী ও দেশের অন্যান্য শহরে ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বিদ্যুতের চাপ কমানো হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার আশা করছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে দ্রুত সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপো’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি উদ্যোক্তারা ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে সরাসরি ভবন মালিককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবেন। নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল সমন্বয় করা হবে এবং ভবন মালিকও উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ পাবেন। এটি উদ্যোক্তাদের জন্য লাভজনক হবে এবং রাজধানীর বিদ্যুতের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সৌর ও বায়ু বিদ্যুতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত এখনও পিছিয়ে রয়েছে যেখানে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান ইতোমধ্যেই সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে। যা সৌরবিদ্যুৎ খাতকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চলতি মাসের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত হবে এবং জুনের মধ্যে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সরকারি আদেশ হিসেবে জারি করা হবে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ইনভার্টার, ফ্রেম ও ফটোভোল্টাইক প্যানেলের মতো সরঞ্জাম আমদানিতে সহজ ও কার্যকর কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে যাতে উদ্যোক্তারা সহজে সোলার সিস্টেম স্থাপন করতে পারেন। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থায়, কারণ দিনের সময়ের বিদ্যুৎ উৎপাদন যথেষ্ট হলেও সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ব্যাটারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী উদাহরণ হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের কথা তুলে ধরেছেন। আশির দশকে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দেওয়া বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মতো নীতিগত সুবিধা বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতে বিপ্লব এনেছিল। একইভাবে সৌরবিদ্যুৎ খাতেও সহায়ক নীতি দেওয়ার মাধ্যমে দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব।
সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১০,০০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার এমন নীতি আনতে চায় যাতে উদ্যোক্তাদের করের চাপ কমে এবং তারা সাশ্রয়ীভাবে সোলার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেন।
এদিন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিনদিনব্যাপী বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার এক্সপো উদ্বোধন করা হয়। এতে ১২টি দেশের প্রায় ১৪০টি কোম্পানি অংশগ্রহণ করেছে। প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বহুমাত্রিক পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা উপস্থাপন করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান মুজাফফর আহমেদ, বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ।