বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন -ছবি : সংগৃহীত
সরকার দেশের শিক্ষাক্ষাতের মানোন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য জিডিপির পাঁচ শতাংশ বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। রাজধানীর হোটেল শেরাটনে বৃহস্পতিবার ইউনিসেফ আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ কখনো দেড় শতাংশের বেশি হয়নি। তাই শিক্ষাখাতের আমূল পরিবর্তন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাকে সবসময় গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষার মান নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দক্ষতাও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
ডিজিটাল ক্লাসরুম কার্যক্রমেও বিগত সরকার ব্যর্থ হয়েছিল, যেখানে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির আলোকে ইন্টারেক্টিভ ডিজিটাল ক্লাসরুম চালু করতে কাজ করছে।
সেই অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. মাহদী আমিনও উপস্থিত ছিলেন। তিনি শিক্ষার গুণগত মান এবং কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা এমন পর্যায়ে পৌঁছানো দরকার যাতে দেশের মেধাবী তরুণরা এই পেশাকে তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেয়।
তিনি আরও বলেন, শহর ও গ্রামের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার কারিকুলামে নৈতিক শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি এবং নতুন কোনো বিদেশি ভাষা শেখানোর আগে শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষা বাংলা ও আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এই পদক্ষেপ শিক্ষাখাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার এবং দেশের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জিডিপির পাঁচ শতাংশ বিনিয়োগ শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষক সমাজের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং দেশের যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক মানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং শহর-গ্রাম ভিত্তিক বৈষম্য কমে শিক্ষার সাম্যতা নিশ্চিত হবে।
সরকারের এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা আরও শক্ত করবে।