বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

মহান মে দিবস আজ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। শ্রমিক, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো দিনটি উপলক্ষে সভা-সমাবেশ, র্যালি ও মিছিলের আয়োজন করে নিজেদের অধিকার ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার কথা তুলে ধরছে। রাজপথজুড়ে চলছে গান, স্লোগান আর মিছিলের মাধ্যমে প্রতীকী প্রতিবাদ ও অধিকার আদায়ের আহ্বান।
শুক্রবার (১ মে) সকাল থেকেই রাজধানীর তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে হাজারো শ্রমজীবী মানুষ জড়ো হন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই সমাবেশে অংশ নিতে একের পর এক মিছিল এসে যোগ দেয়। উপস্থিত সংগঠনগুলো পৃথকভাবে কিংবা যৌথভাবে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, কাজের পরিবেশ উন্নয়নসহ নানা দাবি তুলে ধরে।
শ্রমিকদের উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো– বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কমানো, ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধ, নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ, রানা প্লাজা ও তাজরিনসহ আগুনে পোড়া শ্রমিক গণহত্যার বিচার, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেয়া, শ্রমিকদের ৮ ঘন্টা কাজের মজুরি দেয়া, ওভারটাইম করানো যাবে না, অবাধে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার, বন্ধ কারখানা চালু, মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় মজুরি নির্ধারণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো ইত্যাদি।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ফ্রন্টের নেতারা বলেন, নতুন সরকারের কাছে আমাদের চাওয়া, বারবার যেন আমাদের দাবি নিয়ে পথে নামতে না হয়। তারা যেন শ্রমিকদের দাবিগুলো পূরণ করেন। আমাদের জন্য যেন গণতান্ত্রিক শ্রম আইন করা হয়। কারণ গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ছাড়া শ্রমিকদের মুক্তি নেই।
শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) নেতারা বলেন, শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি ৩০ হাজার করতে হবে। নাহলে আমাদের যে দাস প্রথা, সেটি সমাজ থেকে যাবে না।
তারা বলেন, আমরা মনে করি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রথমে শ্রম আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করে সেটার বাস্তব প্রয়োগ করতে হবে।
এসময় তারা অভিযোগ জানিয়ে আরও বলেন, শ্রমিকরা যেন একত্রিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারি সেজন্য মালিকপক্ষ দালাল তৈরি করে রাখে। শ্রমিকদের বিভক্ত করে রাখে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। আমাদের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নিজেদের জন্য লড়াই করে, সংগ্রাম করে বেচে থাকতে হবে।
বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলো হলো- ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করা, বিড়ি শিল্পসহ সকল শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে, সিগারেটের ৫ শতাংশ আর বিড়িতে ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়করের এ বৈষম্য দূর করতে হবে; বিড়ি শ্রমিকদের রেশন সুবিধা চালু করতে হবে; নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনে (টাফ) পক্ষ থেকে দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থ বিরোধী, শিল্প কৃষি বিরোধী, জাতীয় নিরাপত্তা বিরোধী অসম অধীনতামূলক পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, প্রক্রিয়াধীন সামরিক চুক্তি বাতিল করতে হবে, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে রেখে সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর, ও নৌবন্দর আধুনিকীকরণ করতে হবে, বাংলাদেশকে ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার কঠোর নিন্দা করতে হবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থ বিরোধী সব অসম ও অধীনতামূলক চুক্তি প্রকাশ ও বাতিল করতে হবে।
এছাড়া ঢাকা জেলা ট্যাক্সি, ট্যাক্সি কার, অটোটেম্পু, অটোরিক্সা চালক শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের মজুরি পুণঃনির্ধারণে অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন ও ন্যূনতম মজুরি ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করার দাবি জানানো হয়।
অন্যদিকে বিভিন্ন দাবি নিয়ে সমাবেশ ও র্যালির আয়োজন করে কর্মজীবী নারী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস ওয়ার্কার্স এন্ড এমপ্লয়িজ ফেডারেশ, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ইসলামী সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক পরিষদ, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন (বাজাফে-১৭), জাতীয় গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ প্রাইভেট টেলিকমিউনিকেশন শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন, হস্তশিল্পী, কারচুপি ও হ্যান্ড এমব্রয়ডারি শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন, আওয়াজ ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেস (বিএলসি)সহ আরও কিছু সংগঠন।