বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এখন নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। তিনি একটি বৈষম্যহীন এবং সমমর্যাদার সমাজ গঠনের লক্ষ্যে দেশের সকল বিচারক ও আইনজীবীদের একযোগে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ন্যায়বিচার কেবল আদালতের কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয় এটি একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি। একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও শান্তি নির্ভর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর। বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে হলে সমতা, পারস্পরিক আস্থা এবং সহমর্মিতা অপরিহার্য।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে সকল নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই নীতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণার সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তারেক রহমান বলেন, বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ অর্থের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। প্রতিটি নাগরিকের জন্য “অ্যাক্সেস টু জাস্টিস” নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, যে রাষ্ট্রে আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষিত নয় সেটি কখনোই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না।
তারেক রহমান দাবি করেন, দীর্ঘ সময়ের শাসনব্যবস্থার অবসানের পর বাংলাদেশ এখন নতুনভাবে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই পথকে শক্তিশালী করতে হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মত দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতে হয়েছে। সেই সময় তিনি দেখেছেন যে, অনেক দরিদ্র মানুষ শুধুমাত্র একজন আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য না থাকায় বছরের পর বছর বিনা বিচারে জেলে ধুঁকছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ন্যায়বিচার যদি কেবল সামর্থ্যবানদের জন্য থাকে,তবে সেই রাষ্ট্র প্রকৃত গণতান্ত্রিক হতে পারে না।
দেশের বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া ‘লিগ্যাল এইড ফান্ড’ গঠন করেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে লিগ্যাল এইড কর্মসূচিকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে আইনি সংস্কার সম্পন্ন করেছে।
আদালতের মামলার জট কমাতে প্রধানমন্ত্রী ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ বা মধ্যস্থতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিচার বিলম্বিত হওয়া মানেই বিচার অস্বীকার করা। তাই আদালতের বাইরে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যা ইতোমধ্যে সফলভাবে হাজার হাজার মানুষের হয়রানি ও রাষ্ট্রের ব্যয় কমিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের আইনি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে সরকারি ‘লিগ্যাল এইড হেল্পলাইন’ আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বিপদের সময় রাষ্ট্র নাগরিকের পাশে দাঁড়ালে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় হয়।
বক্তব্যের শুরুতে দাপ্তরিক জরুরি কাজের কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি মাইকেল মিলার, ইউএনডিপি প্রতিনিধি স্টিফেন ইলারসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।