বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ফাইল ফটো
ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে মঙ্গলবার দেখা গেল এক অদ্ভুত নীরবতা যে নীরবতা কিছুদিন আগেও ছিল কল্পনার বাইরে। রাজধানীর অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পাম্প ঘুরে যা দেখা গেল, তা যেন হঠাৎ করেই বদলে যাওয়া এক জ্বালানি বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়।
রাজারবাগ, আরামবাগ, মতিঝিল থেকে মৎস্য ভবন সবখানেই একই চিত্র: নেই দীর্ঘ লাইন, নেই হর্নের শব্দে অস্থিরতা, নেই রাতভর অপেক্ষার ক্লান্ত মুখ। কোথাও মাত্র কয়েকটি মোটরসাইকেল, কোথাও ১০–১৫টি গাড়ি আর তাতেই যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে পুরো দৃশ্যপট। কিন্তু এই স্বাভাবিকতা নিয়েই শুরু হয়েছে আসল প্রশ্ন।
মাত্র কিছুদিন আগেও ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রভাব ও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় ঢাকার পাম্পগুলো ছিল প্রায় অচল এক যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। রাত থেকে সকাল মানুষ দাঁড়িয়ে থাকত তেলের আশায়। অথচ আজ সেই একই শহরে তেল নিতে আসছে কেউ কেউ লাইন ছাড়াই, কেউ আবার অপেক্ষা করছে মাত্র কয়েক মিনিট।
মহাখালী, রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে সকালবেলায় দেখা গেল প্রায় ফাঁকা দৃশ্য।মোটরসাইকেলের ভিড় নেই, প্রাইভেট কারও নেই দীর্ঘ সারি। আরামবাগে কিছুটা ভিড় থাকলেও তা আগের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম। মতিঝিলে তো চিত্র আরও নাটকীয় যেখানে এক সপ্তাহ আগে হাজারো গাড়ির চাপ ছিল আজ সেখানে মাঝেমধ্যে দু–একটি গাড়ি এসে তেল নিয়ে চলে যাচ্ছে।
তবে এই শান্ত বাজারের ভেতরেই লুকিয়ে আছে আরেকটি চাপা বাস্তবতা।
কর্মীরা বলছেন, সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক নয় বরং কিছুটা ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে। কোনো কোনো পাম্পে ডিজেল সরবরাহ কম যদিও অকটেনে বড় ধরনের সমস্যা নেই। অর্থাৎ দৃশ্যত স্বস্তি থাকলেও ভেতরে ভেতরে এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি সরবরাহ চেইন।
একজন পাম্প মালিকের কথায় উঠে আসে আরেক দিক ‘লাইন নেই মানেই সমস্যা শেষ না বরং সরবরাহের গতি আগের চেয়ে কমে গেছে’। এই মন্তব্যই যেন পুরো পরিস্থিতির আরেকটি স্তর উন্মোচন করে দেয়।
অন্যদিকে গ্রাহকদের কণ্ঠে মিশে আছে স্বস্তি ও অসন্তোষের মিশ্র সুর। কেউ বলছেন ভোগান্তি কমেছে, কেউ আবার বলছেন দাম এখনো বেশি। একজন রাইড শেয়ার চালকের কথায় বাস্তবতা আরও স্পষ্ট ‘লাইন না থাকলেও ভাড়া আর জ্বালানির খরচ তো কমেনি’।
ফলে ঢাকার এই নতুন “ফাঁকা পাম্প দৃশ্য” আসলে স্বস্তির গল্প নাকি সাময়িক নীরবতা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ কিছুদিন আগের দীর্ঘ লাইনের আতঙ্ক যেমন সত্য ছিল তেমনি আজকের অস্বাভাবিক শূন্যতাও ঠিক ততটাই রহস্যময়।
সব মিলিয়ে রাজধানীর জ্বালানি চিত্র এখন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দেখতে শান্ত কিন্তু ভেতরে পুরোপুরি স্থির নয়।