বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান -ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি প্রত্যেকটি বিষয়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করেছে।ক্ষমতায় গেলে বিএনপি তাদের ঘোষিত ৩১ দফা ভুলে গেছে এবং তারা ‘পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করে দুর্বল আওয়ামী লীগ’ হওয়ার চেষ্টা করছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় যদি গ্রহণযোগ্য না করা হয় তাহলে সংসদের ভেতরে ও বাইরে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিএনপির কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় বসে বিএনপি তাদের ৩১ দফাও ভুলে গেছে। তাদের প্রতিটি বিষয়ে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের রাস্তা ধরে হাঁটছে।
আপনারা আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না, দুর্বল আওয়ামী লীগ হবেন। আওয়ামী লীগ একসময় পুরো জাতিকে নিয়ে কিংবা বিরোধী দলকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করত আজ তাদের কী দশা? আপনারা ঠিক একই কাজ শুরু করেছেন।
জামায়াত আমির বলেন, গণভোটের রায় না মানলে সংসদের ভেতরে-বাইরে লড়াই চলবে। সংসদে আমরা প্রথম দিনে দাবি তুলেছি, আমরা শপথ নিয়েছি, তারা শপথ নেন নাই। জাতির সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা ভঙ্গ করে তারা প্রতারণা করেছে।
তিনি আরও বলেন, এরপর যখন জাতিকে প্রতারিত করা হয়েছে। আমরা নোটিশ দিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করেছি। তারা তারও বিরোধিতা করেছে। যেসব আইন সংশোধন বা অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে ফ্যাসিবাদী শাসনের পরিবর্তন হবে না সেগুলো নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ চাই। যেই বাংলাদেশে শিশু, কিশোর, যুবক-যুবতী এবং আমার মা-বোনেরা যখন ঘর থেকে বের হবে তখন কারো বুক কাঁপবে না। তারা পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বের হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির সঙ্গে আমরা একসময় একসঙ্গে মজলুম ছিলাম। কিন্তু তারা তাদের পথ থেকে সরে গেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের পোষ্য লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল। কিন্তু আজ তাদের সেই দুর্দিনে কোনো লাঠিয়াল পাশে এসে দাঁড়ায়নি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক যে সমস্ত জায়গায় পরিবর্তন দরকার, সুশাসন কায়েমের জন্য, সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার জন্য, প্রত্যেকটি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে চলেছে। এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা।
তিনি বলেন, বিএনপি তাদের ইশতেহারে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচিরই বিরোধিতা করছে। আমার মনে হয়, তারা যে বিরোধিতা করছে এই জ্ঞানটাও বোধহয় তারা হারিয়ে ফেলেছে।
তিনি বলেন, আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের সন্তানদের হাতে দা-কুড়াল দেখতে চাই না। আমরা তাদের হাতে খাতা এবং কলম দেখতে চাই। কোনো আদুভাই, দাদুভাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে আমাদের সন্তানদের পথ আটকাবে এটা আমরা আর দেখতে চাই না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা বিদেশে ছিলেন তারা দেশে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছেন। এই পরিবর্তন না হলে তারা হয়তো দেশে ফেরার কথাও ভাবতে পারতেন না। আন্দোলনের সময় আমরা অনেকেই কারাগারে ছিলাম। তখন হতাশা ছিল কিন্তু আজ বাস্তবতা বদলেছে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিদের অবদান অস্বীকার করা উচিত নয়। আমরা কারো ন্যায্য অবদান অস্বীকার করি না। কিন্তু আন্দোলন কোনো একক নেতৃত্বে সফল হয়নি এটি ছিল জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম।
ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্ররা জীবন বাজি রেখে রাস্তায় নেমেছিল, শ্রমিকরা পাশে দাঁড়িয়েছিল, মায়েরা সন্তান কোলে নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। এই ইতিহাস ভুলে যাওয়া যাবে না।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সংস্কার ও গণভোট ইস্যুতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট ছিল তবে অন্য একটি রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যদি জনগণের রায় অমান্য করা হয় তাহলে গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংসদের ভেতরে এবং রাজপথে দুই জায়গাতেই চলবে।
ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাজনীতিতে সহিংসতা ও বিভাজন তৈরি হচ্ছে যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতা থাকবে না এবং জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান থাকবে।
সমাবেশে তিনি জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।