বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিনটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ অধিবেশনে বিদ্যুৎ–জ্বালানি সংকট, শিক্ষা খাতের সংস্কার, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা সব মিলিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও আলোচনার জন্ম দেয়।
অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে ‘জাতীয় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি যৌথ উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
তার মতে, দলীয় সীমার বাইরে গিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। তিনি জনগণের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যেখানে সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা থাকছেন।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অধিবেশনে জানান, দেশে উৎপাদন ঘাটতির কারণে সাময়িকভাবে লোডশেডিং চালু রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে শহর ও গ্রাম উভয়ের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারে ভারসাম্য আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে তা কৃষি সেচ খাতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বিগত দেড় দশকের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে একটি স্বচ্ছ চিত্র জনগণের সামনে আনা হবে।
এছাড়া জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। ইতোমধ্যে শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়।
অধিবেশনে বিভিন্ন সংসদ সদস্য নিজ নিজ এলাকার সমস্যা তুলে ধরেন। কেউ গ্যাস সংকট, কেউ আবার রেল যোগাযোগ উন্নয়ন, আবার কেউ স্থানীয় শিল্পকারখানার আধুনিকায়নের দাবি জানান।
চুয়াডাঙ্গার একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সারা বছর চালু রাখার প্রস্তাব আসে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের পরিবহন সহজ করার দাবি জোরালোভাবে উঠে আসে।
অধিবেশনের এক পর্যায়ে স্পিকার সংসদীয় শৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি সদস্যদের আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান এবং অধিবেশন চলাকালে অপ্রয়োজনীয় চলাচল, উচ্চস্বরে কথা বলা ও মোবাইল ব্যবহারের ওপর সতর্কতা জারি করেন।
তার মতে, সংসদের মর্যাদা রক্ষা করা সব সদস্যের যৌথ দায়িত্ব।
দিনব্যাপী আলোচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, শিক্ষা খাতের সংস্কার এবং আঞ্চলিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সরকার ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণে তুলনামূলকভাবে সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয় অধিবেশনে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অধিবেশন ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে সমন্বিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।