বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ফাইল ফটো
সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে এবারের ‘পুলিশ সপ্তাহ’ আয়োজনের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। জ্বালানি, খাবার ও সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় হ্রাসের কারণে অনুষ্ঠানটি সাত দিনের পরিবর্তে চার দিনে সীমিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কমানো হচ্ছে ইভেন্ট, অতিথি ও পদকপ্রাপ্তদের সংখ্যাও।
সূত্র অনুযায়ী, এবারের পুলিশ সপ্তাহে ১১৫ জন সদস্য বিপিএম ও পিপিএম পদক পাচ্ছেন। গত বছরগুলোর তুলনায় এটি কম।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় সরকারি ব্যয় কমানোর বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি ব্যবহার, সভা-সেমিনার ব্যয়, প্রশিক্ষণ খরচ ও বিদেশ ভ্রমণসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট। সেই নির্দেশনার আলোকে পুলিশ সপ্তাহের আয়োজনেও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এবারের আয়োজনে নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভা থাকছে না। প্যারেডে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচের কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণও সীমিত করা হয়েছে। রাজারবাগসহ পুলিশ স্থাপনাগুলোতে আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং খাবারের মেনুতেও ব্যয় কমানো হচ্ছে।
চার দিনের কর্মসূচিতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য, পুনাকের বার্ষিক সভা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আইজিপি সম্মেলন, বিভিন্ন প্রেজেন্টেশন ও দরবারসহ কয়েকটি মূল আয়োজন থাকছে। বৃষ্টি না হলে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে।
পদক প্রাপ্তির তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং অনুমোদনের পর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
গত বছর পুলিশ সপ্তাহ তিন দিনে সীমিত ছিল এবং তখন প্যারেডসহ বেশ কিছু কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়নি। এবার তুলনামূলকভাবে কিছু কার্যক্রম ফিরলেও সামগ্রিকভাবে ব্যয় ও আয়োজন সীমিত রাখা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তিন দিনব্যাপী ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৫’-এর উদ্বোধন করেছিলেন। সেবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’। সেই পুলিশ সপ্তাহে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসেবায় পুলিশ সদস্যদের নতুন অঙ্গীকারের ওপর জোর দেওয়া হলেও বঙ্গভবনে হয়নি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পুলিশের সম্মিলন অনুষ্ঠান। তবে এবার হবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সম্মিলন।
অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের কার্যালয়েও হয়নি কোনো অনুষ্ঠান। বাদ দেওয়া হয়েছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে পুলিশ সপ্তাহের প্যারেডও। এবার বৃষ্টি না হলে হবে প্যারেড। সে প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
এবারের পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদা দরবার বা সম্মিলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে নির্দিষ্ট বিষয়ে কথা বলবেন সিলেকটিভ পুলিশ কর্মকর্তারা।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন পুলিশ সপ্তাহ উদযাপনে গঠিত একাধিক কমিটির সদস্য। তিনি বলেন, এবার পুলিশ সপ্তাহ ১০মে শুরু হচ্ছে। চারদিনের পুলিশ সপ্তাহে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুলিশ সপ্তাহ উদযাপনে মোট ২৪টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আরও কিছু উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ছয় দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেছিলেন পলাতক শেখ হাসিনা। সে বছর রেকর্ড চার ক্যাটাগরিতে ৪০০ পুলিশ ও র্যাব সদস্য সম্মানজনক পুলিশ পদক পেয়েছিলেন। তার আগের বছর ২০২৩ সালে ১১৭ জন এবং ২০২২ সালে ২৩০ জনকে এই পদক দেওয়া হয়েছিল।
পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সাত দিনের স্থলে গত বছর ২৯ এপ্রিল থেকে ১মে পুলিশ সপ্তাহ তিন দিনে নামিয়ে আনা হয় এবং তখন কোনো প্যারেড রাখা হয়নি। শিল্ড প্যারেডসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতাও ছিল না তখন পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে। পত্রিকায় পুলিশ সপ্তাহের কোনো ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়নি। রেডিও-টেলিভিশনেও হয়নি বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান।