বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ‘প্রতারণার দলিল’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত একটি মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্পিকারের অনুমতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও তফসিল উদ্ধৃত করে এ আদেশের আইনি অসারতা তুলে ধরেন।
‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, যে আদেশের কোনো আইনি ভিত্তি নেই, সেটি আইনত ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ বা শুরু থেকেই অবৈধ। এটি না কোনো অধ্যাদেশ, না কোনো আইন; এটি একটি ‘নিউট্রাল জেন্ডার’ বা অন্তহীন প্রতারণার দলিল।
এ আদেশকে ‘জাতীয় প্রতারণার দলিল’ অভিহিত করে তিনি এ-ও বলেন, ১৯৭৩ সালের পর রাষ্ট্রপতির এমন কোনো আদেশ জারির সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই।
রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা নেই
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলের একজন সদস্য এই আদেশকে বৈধ আইন বলেছেন, এখানেই মূল বিতর্ক। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এবং ১৯৭২ সালের প্রভিশনাল কনস্টিটিউশন অর্ডার অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করতে পারতেন। কিন্তু ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদের বৈঠকের পর সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সেই ক্ষমতা রহিত হয়ে গেছে। সুতরাং এই আদেশের জন্মই অবৈধ।
গণভোট ও জনগণের সার্বভৌমত্ব
গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত জনরায় প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে আছে কি না, তা জানার জন্য আমরাই (গণভোটের) প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু গণভোটের ব্যালটে যেভাবে প্রশ্ন সাজানো হয়েছে, তা জনগণকে বিভ্রান্ত করার শামিল। কুইনাইন ট্যাবলেট কলার ভেতরে ঢুকিয়ে খাওয়ানোর মতো করে তিনটি ভালো প্রশ্নের সঙ্গে একটি বিতর্কিত আদেশ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
‘সংবিধানে ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারলেও সংবিধানের কোনো বিধান রহিত বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা তার নেই। অথচ এই আদেশের মাধ্যমে পরবর্তী সংসদের (বর্তমান সংসদ) সার্বভৌম এখতিয়ার খর্ব করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা পৃথিবীর কোথাও নেই’—যোগ করেন তিনি।
শপথগ্রহণ ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার ফরম বিতরণ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কঠোর সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ ও তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী শপথ নিয়েছেন। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো আইনি অস্তিত্ব নেই। সিইসি এই ফরম সংসদে পাঠিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গ করেছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যালট পেপারে আমরা সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য ভোট পেয়েছি, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য নয়। এই পরিষদের কোনো অস্তিত্ব এখন নেই। তাই রাষ্ট্রপতি কোন বিধানে এর অধিবেশন আহ্বান করবেন?
বিএনপি সংস্কারের বিরোধী নয়
বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন প্রচারণাকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে যে, বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ মানে না। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর ও বাক্য আমরা ধারণ করি। তবে আমরা সেই সংস্কার চাই, যা সংবিধানসম্মত এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখে।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ৪৭টি বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা আগামীতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং জনগণের ম্যানডেট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।