বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন জ্বালানি তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।
বৈশ্বিক সংকটের শুরু হওয়ার পর জ্বালানি তেল সংগ্রহের কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়ে তিনি বলেন, আপনারা জানেন রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য ইন্ডিয়াকে একটা স্যাংশন ওয়েভার দিয়েছিল (যুক্তরাষ্ট্র), ঈদের আগের দিন আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সরকারের মিটিংয়ে আমিও ছিলাম। মিটিংয়ে ওনাদের বোঝাতে চেষ্টা করেছি যে রাশিয়া থেকে যেন আমাদের অন্তত দুই মাসের অথবা ছয় লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আনার অনুমতি দেয়, স্যাংশন ওয়েভার দেয়।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, সেটা ওনারা (যুক্তরাষ্ট্র) বলেছে চিঠি দিতে, আমরা সেই চিঠিটা দিয়েছি। ঈদের পরদিন খুব সম্ভবত। এখন আমরা উত্তরের অপেক্ষায় আছি। এটুকুই হচ্ছে এই ব্যাপারে অগ্রগতি।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে ভারতের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। আমরা ভারত থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে মাত্র পাঁচ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল পেয়েছিলাম। আমাদের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬০ হাজার মেট্রিক টন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু আমরা পেয়েছিলাম মাত্র পাঁচ হাজার মেট্রিক টন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, তারপর আমাদের মন্ত্রী এবং আমাদের সচিবসহ আমরা চিঠি লিখেছি এবং হাইকমিশনারের সঙ্গে ওনাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তো এখন আমরা কিন্তু নিয়মিত পাচ্ছি। এ পর্যন্ত আমরা প্রায় তিন-চারটা পার্সেল পেয়েছি। তিনটা পেয়েছি পাঁচ হাজার মেট্রিক টনের, একটা পেয়েছি সাত হাজার মেট্রিক টনের। তো সব মিলিয়ে আমরা ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পেয়েছি।’
তিনি বলেন, এর বাইরে আমরা ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টনের দুটি কার্গো শিগগির পাবো বলে প্রত্যাশা করছি। এর বাইরে আমরা বিকল্প সোর্সগুলো কী হতে পারে সেটা এক্সপ্লোর করছি প্রতিনিয়ত। যেহেতু এটা আমাদের একটু সংকুচিত হয়ে গেছে, সেজন্য বিকল্প সোর্স খুঁজছি। আর কোথায় কোথায় পাওয়া যায়। আমরা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, এঙ্গোলা, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।
যুগ্ম-সচিব বলেন, বলেন, আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে আশ্বাস পেয়েছি। অস্ট্রেলিয়া থেকে একটা, এঙ্গোলা থেকে একটা আমরা এলএনজি পেয়েছি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশ—ভারত, পাকিস্তান, চীন ও রাশিয়াকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর আগেই ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত। বিশেষ করে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ছাড়া অন্য জাহাজের চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।