বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শুরুতেই তিনটি বড় ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। এসব ইস্যু হলো—সংসদ সদস্যদের দ্বৈত শপথ, গণভোট বাস্তবায়ন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ। পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, যুক্তি ও অবস্থান ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিরোধী শিবিরের একটি অংশ ইতোমধ্যে রাজপথে কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বললেও বিদ্যমান সংবিধানের বাইরে না যাওয়ার শর্ত দিয়েছে। ফলে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—রাজনীতি কি ‘জুলাই অভ্যুত্থান’র চেতনা অনুসরণ করবে, নাকি বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সংসদের শুরুতেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়ার প্রশ্নে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি এ নিয়ে কাজ করছে। দুই দিনের টানা বৈঠকে ১২০টি অধ্যাদেশে ঐকমত্য এলেও ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যে গণভোট অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত বিধান, পুলিশ কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অন্যতম।
কমিটির সভাপতি জানিয়েছেন, বাকি বিষয়গুলো নিয়ে শিগগিরই আবার বৈঠক হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে তা সংসদের ভেতর ও বাইরে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
গণভোট ইস্যু ঘিরে অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে বিভক্ত। নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে জনসমর্থন পাওয়া গেলেও বর্তমান সরকার সেই অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের যুক্তি, এটি সাংবিধানিকভাবে দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
বিপরীতে বিরোধী পক্ষ বলছে, গণভোটের ফলাফল জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত, তাই তা বাতিল করা হলে জনমতের প্রতি অসম্মান দেখানো হবে। আরেকটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে দ্বৈত শপথ নিয়ে। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া উচিত কি না—এ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। কিছু দল বিদ্যমান সংবিধানে এর স্বীকৃতি না থাকায় দ্বিতীয় শপথ থেকে বিরত থেকেছে।
অন্যদিকে কিছু দল নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ হিসেবে দুই ধরনের শপথই গ্রহণ করেছে। ফলে একই সংসদের ভেতরেই ভিন্ন অবস্থান তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে উত্তপ্ত বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। এ নিয়ে দুই জোটের এমপিরা প্রস্তুতিও নিয়েছেন।
সরকারদলীয় দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী (আইন ও স্বরাষ্ট্র) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জুলাই সনদ ও সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
অন্যদিকে বিশেষ কমিটির সদস্য জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, টু-থার্ড মেজরিটির দোহাই দিয়ে অতীতের সরকার অনেক কিছু করেছে। কিন্তু সেই অহংকার কোনো জাতির জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না। জনগণের স্বার্থপরিপন্থি কোনো বিষয়ে আমরা একমত হব না।
তিনি বলেন, যে সংস্কার ও বিচারের ম্যান্ডেট নিয়ে এই সরকার এসেছিল, গুম কমিশন বা মানবাধিকার কমিশনের মতো সেই অর্জনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করা জনগণ মেনে নেবে না। কোনো আইন বেআইনি কি না, তা আদালত নির্ধারণ করবেন। কিন্তু সচল কোনো আইন বা অধ্যাদেশকে একতরফা বাতিল করার প্রস্তাব আমরা গ্রহণ করিনি।
আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই সনদ আমাদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দলিল। এর ৩ নম্বর পেজের ৬-এর ক ধারা অনুযায়ী, সনদের ৮৪টি আর্টিকেলের মধ্যে ১ থেকে ৪৭ পর্যন্ত অংশ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য। যারা একে বাইপাস করে ভিন্ন কোনো আদেশ দিতে চায়, তারা সনদের পরিপন্থি কাজ করছে। আমরা সংবিধান ও জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়েই সব পদক্ষেপ নিচ্ছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সংবিধান ও জুলাই সনদকে গুরুত্ব দিয়েছি। বিশেষ করে “জুলাই সুরক্ষা”সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সব সদস্য একমত হয়েছেন এবং এগুলো হুবহু সংসদে উপস্থাপন করা হবে। অধ্যাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে “জুলাই জাতীয় সনদ” এবং “সাংবিধানিকতা” এ দুই বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।