বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

অনিয়মের অভিযোগে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নিয়োগ পাওয়া প্রায় এক লাখ পুলিশ কনস্টেবল তদন্তের আওতায় আসছে। পুলিশ সদর দপ্তর এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জেলা পর্যায়ে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটিগুলো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, বিধি লঙ্ঘন ও অন্যান্য সম্ভাব্য অনিয়ম যাচাই করবে। জানা গেছে, আদেশটি ৬৪ জেলা পুলিশ সুপার বরাবর পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশের একটি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতি বছর গড়ে আট থেকে দশ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হয়। সে হিসাবে ওই নিয়োগ পাওয়া কনস্টেবলের সংখ্যা প্রায় এক লাখের কাছাকাছি।
আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় পুলিশ সুপারের (এসপি) নেতৃত্বে গঠিত কমিটি তদন্ত করবে এবং তাদের মতামতসহ প্রতিবেদন ১৫ এপ্রিলের মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে জমা দেবে।
প্রতিটি কমিটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), ডিআইও-১ (জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা) এবং আরওআই/আরও-১ (রিজার্ভ অফিস ইন্সপেক্টর) থাকবেন। নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তারা খতিয়ে দেখবেন।
তদন্তে দেখা হবে, অন্য জেলার প্রার্থীরা ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি পেয়েছেন কি না। এমন অভিযোগও রয়েছে যে, নিয়োগের জেলায় জমি কিনে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে দেখিয়ে চাকরি নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রার্থীকে অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে আলাদা কক্ষে বিশেষ পুলিশ সদস্যদের তত্ত্বাবধানে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
কোনো প্রার্থী বা তার পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে তাকে নিয়োগের জন্য যোগ্য বা অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে কি না- সেটিও তদন্তে দেখা হবে।
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের মধ্যে অসঙ্গতিও খতিয়ে দেখা হবে। যেমন- লিখিত পরীক্ষায় কম নম্বর পেয়েও মৌখিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক বেশি নম্বর পেয়ে কেউ চাকরি পেয়েছেন কি না।
এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঘটাতে জড়িত অসাধু পুলিশ সদস্য, দালালচক্র, প্রতারক চক্র বা অন্য কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না-তাও তদন্তে দেখা হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসান এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সব জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠিয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের আরেক কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিয়োগে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- এক জেলার প্রার্থীকে অন্য জেলার কোটায় নিয়োগ দেওয়া, কনস্টেবল নিয়োগে রাজনৈতিক সুপারিশের তালিকা ব্যবহার, এমনকি লিখিত পরীক্ষায় পাস করে মেধাতালিকায় থাকা কিছু প্রার্থীকে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অজুহাতে চাকরি না দেওয়া।