বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চট্টগ্রামমুখী যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে একটি জোড়া স্পেশাল ট্রেন চালুর পাশাপাশি আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত বগি সংযোজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে মেরামত কারখানায় পুরোনো ও জরাজীর্ণ ১২২টি বগি সংস্কারের কাজ চলছে। ঈদের আগেই এসব বগি মেরামত করে ট্রেনের বহরে যুক্ত করা হবে।
কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, কর্মীরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে বগিগুলোর রিপেয়ারিং, ওয়েল্ডিং, রঙ করা এবং চাকা মেরামতের কাজ করছেন। দীর্ঘদিন ব্যবহৃত বগিগুলোকে নতুনের মতো করে তুলতে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ঈদ ঘিরে কারখানায় ব্যস্ততা
রেলওয়ে কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে মেরামত কারখানায় কর্মব্যস্ততা অনেক বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত যাত্রী চাপ সামাল দিতে এবার বড় পরিসরে প্রস্তুতি নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সাধারণত প্রতি ঈদে ৮০ থেকে ৯০টি বগি সংস্কার করে ট্রেনের বহরে যুক্ত করা হলেও এ বছর জরাজীর্ণ ১২২টি বগি মেরামতের কাজ চলছে।
ঈদ উপলক্ষে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে একটি জোড়া স্পেশাল ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনেও অতিরিক্ত বগি যুক্ত করা হবে, যাতে বেশি সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হয়।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অগ্রিম টিকিট বিক্রিও শেষ হয়েছে। গত ৩ মার্চ থেকে অনলাইনে শুরু হওয়া টিকিট বিক্রি চলে ৯ মার্চ পর্যন্ত। এসব অগ্রিম টিকিটধারীদের যাত্রা শুরু হবে ১৩ মার্চ থেকে, যা চলবে ১৯ মার্চ পর্যন্ত। যাত্রীদের স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
৯২ বগি মেরামত শেষ
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে চলাচলের উপযোগী ১২২টি বগি যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপে এখন ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে।
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দুই মাসের কর্মপরিকল্পনার প্রথম ধাপে ১০৫টি বগি সংস্কারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় আরও ১৭টি বগি যোগ করে মোট সংখ্যা বাড়িয়ে ১২২টি করা হয়। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৯২টি বগির মেরামতকাজ শেষ হয়েছে। সংস্কার শেষে এসব বগি ওয়ার্কশপ থেকে শেডে পাঠানো হয়েছে, যাতে দ্রুত রেলের বহরে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। বাকি বগিগুলোর কাজও ঈদের আগেই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাহাড়তলী কারখানায় কর্মরত শ্রমিক নুরুল ইসলাম জানান, ঈদ ঘিরে রেলের পুরোনো বগি সংস্কারের কাজ শুরুর পর থেকে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের দম ফেলার সময় নেই। ডিউটির বাইরে আমাদের পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত ওভারটাইম করতে হয়। যাতে নির্দিষ্ট সময়ে বগি মেরামতকাজ শেষ হয়।
সর্বোচ্চ টার্গেট
কোচ মেরামত শেষে সরবরাহের জন্য দিনে-রাতে কাজ চলছে বলে জানালেন পাহাড়তলী ক্যারেজ ও ওয়াগন মেরামত কারখানার কর্মব্যবস্থাপক (নির্মাণ) রাজিব দেবনাথ।
তিনি বলেন, ঈদ ঘিরে ১২২টি কোচ মেরামতের টার্গেট দেওয়া হয়েছে। ৮ মার্চ পর্যন্ত ৯২টি রিলিজ দেওয়া হয়েছে। ১৬ মার্চের মধ্যে বাকিগুলো মেরামত করে যাত্রীদের চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া যাবে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক মোস্তাফা জাকির হাসান বলেন, প্রতি ঈদে আমাদের ৮৫ থেকে ৯০টি বগি মেরামতের লক্ষ্য থাকে। এবার সর্বাধিক ১২২টি বগি মেরামতের টার্গেট নিয়েছি আমরা। কাজ শেষ হলে বডি, এরপর ভেতরের ইন্টেরিয়র-ফ্যান, লাইট, এসি সব ঠিক করা হয়। রঙ করে একদম নতুনের মতো করা হয়। যাত্রীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন।
ইঞ্জিন ও বগির সংকট
ঈদে ৯০টি ইঞ্জিন সচল রাখার চাহিদা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) মো. বেলাল সরকার।
তিনি বলেন, আশা করছি ৮৫টির মতো দেওয়া সম্ভব হবে। মেরামতে প্রয়োজনীয় মালামাল আসছে। আশা করছি সব মালামাল হাতে এলে ইঞ্জিন সংকট কেটে যাবে।
ইঞ্জিন ও বগির সংকটের কথা জানিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগির সংকট আছে। স্বাভাবিক সময়ে ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে যে পরিমাণ বগি ও ইঞ্জিন প্রয়োজন, তা আমাদের কাছে নেই। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে ঈদযাত্রায় যাতে কোনও ধরনের সমস্যা না হয়, সেজন্য আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত বগি মেরামত করা হচ্ছে। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা হবে। এক জোড়া স্পেশাল ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর এবং চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চলাচল করবে।