বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ পরিস্থিতিতে ফিলিং স্টেশন থেকে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহনে জ্বালানি তেল সংগ্রহে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই লিটার এবং প্রাইভেটকারে সর্বোচ্চ দশ লিটার জ্বালানি তেল দেওয়া যাবে। এর বেশি তেল সরবরাহ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (০৬ মার্চ) এক জরুরি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় সাময়িকভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ দুই লিটার এবং প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ দশ লিটার পেট্রোল বা অকটেন কিনতে পারবে। এছাড়া জিপ বা মাইক্রোবাসের জন্য ২০-২৫ লিটার, ডিজেলচালিত পিকআপ বা লোকাল বাসের জন্য ৭০-৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার ট্রাক বা বাসের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল সংগ্রহের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তেলের মজুদ নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ডিলার ও সাধারণ ভোক্তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুদ করার চেষ্টা করছেন। এই কৃত্রিম সংকট ও আস্থার সংকট নিরসনেই সরকার বিক্রয়সীমা বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিপিসি জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি মাঝেমধ্যে বিলম্বিত হলেও বর্তমানে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত সূচি অনুযায়ী পার্সেল দেশে আসছে। এছাড়া সারাদেশে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই দেশে তেলের একটি পর্যাপ্ত বাফার স্টক (নিরাপদ মজুদ) গড়ে উঠবে বলে আশা করছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
এখন থেকে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তেল কেনার সময় ভোক্তাকে অবশ্যই ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করা ক্রয় রশিদ নিতে হবে। পরবর্তী সময়ে তেল সংগ্রহের সময় আগের ক্রয়ের মূল রশিদ জমা দিতে হবে। এছাড়া ফিলিং স্টেশনগুলোকে প্রতিদিনের মজুদ ও বিক্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে প্রদান করতে হবে এবং কোনোভাবেই বরাদ্দের বেশি তেল সরবরাহ করা যাবে না।
সরকার স্পষ্ট করেছে যে, সংকটের অজুহাতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া আইনগত অপরাধ। দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য প্রতি মাসের শুরুতে সরকার নির্ধারণ করে থাকে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সকল ভোক্তা ও ডিলারের সহযোগিতা কামনা করেছে।