বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন আর বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ সব মিলিয়ে আবারও ঊর্ধ্বমুখী সোনার বাজার। সেই বৈশ্বিক ঢেউ আছড়ে পড়েছে দেশীয় বাজারেও।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে সোনার নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ফলে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার দাম গিয়ে ঠেকেছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকায়—যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আরেকটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাজুস জানায়, সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাজারদর, স্থানীয় তেজাবী (পাকা) সোনার মূল্য এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আগের দিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। এক দিনের ব্যবধানে বড় অঙ্কের এই বৃদ্ধি বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী ২১ ক্যারেট সোনার ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা। অর্থাৎ সব ধরনের সোনাতেই দামের ঊর্ধ্বগতি স্পষ্ট। একই সঙ্গে রুপার বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৬ হাজার ৮৮২ টাকা, ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৪ হাজার ১৯৯ টাকায় বিক্রি হবে।
বিশ্ববাজারে দামের লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতিই মূলত এই বৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনা ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম GoldPrice.org এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি অবস্থান করছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বদলে সোনার দিকে ঝুঁকছেন। ফলে চাহিদা বাড়ছে, বাড়ছে দামও।
চলতি ফেব্রুয়ারিতেই একাধিকবার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। ২১ ফেব্রুয়ারি ও ২৩ ফেব্রুয়ারি দুই দফায় দাম বাড়ানো হয়। এর আগে ২৯ জানুয়ারি ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকায় পৌঁছে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে কিছুটা সমন্বয় হয়েছিল, আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বাজার চাঙা হয়ে উঠেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল না হলে দামের এই ঊর্ধ্বগতি থামার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা বিয়ের মৌসুম সামনে রেখে অনেকেই আগেভাগে সোনা কিনে রাখার কথা ভাবছেন, আবার কেউ অপেক্ষা করছেন দাম কমার আশায়। তবে সাম্প্রতিক প্রবণতা বলছে, আপাতত সোনার বাজারে স্বস্তির খবর নেই।
সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও স্থানীয় বাজারের বাস্তবতার প্রভাবে দেশের সোনার বাজারে নতুন উচ্চতার গল্পই যেন লেখা হচ্ছে যেখানে নিরাপদ বিনিয়োগের প্রতীক সোনা ক্রমেই হয়ে উঠছে আরও দুষ্প্রাপ্য।