বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ফাইল ফটো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য বিএনপিতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই প্রার্থীরা প্রোফাইল (বৃত্তান্ত) তৈরি করে মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে মহিলা দলের নেত্রী ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রীরা এগিয়ে আছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় লাভ করেছে। সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে দলটি পাবে ৩৫টি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১টি আসন পাবে। বাকি ৩টি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টিত হবে। সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি আসন বণ্টন হয়।
বিএনপির আলোচনায় থাকা নেত্রীরা হলেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শিরিন সুলতানা, রেহানা আক্তার (রানু), ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন, নিলুফার চৌধুরী (মনি), বিলকিস ইসলাম, শাম্মী আখতার, সৈয়দা আসিফা আশরাফী (পাপিয়া), রাশেদা বেগম (হীরা), রোখসানা খানম, আয়েশা সিদ্দিকা, নেওয়াজ হালিমা, ফরিদা ইয়াসমীন, হেলেন জেরিন, আইনজীবী শাকিলা ফারজানা, প্রয়াত শফিউল বারীর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, চট্টগ্রাম মহিলা দলের মনোয়ারা বেগম (মনি) এবং মহিলা দলের দক্ষিণাঞ্চলের আহ্বায়ক রুমা আক্তার। বেবী নাজনীন ফোকাস রেখেছেন তার কাজের দিকে এবং বলেছেন, আমরা দৌড়ঝাঁপ করছি না তবে যারা যোগ্য তাদের নাম অবশ্যই বিবেচনায় আসবে।
এবার ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাঁদের মধ্যে মহিলা দলের সহ–স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক আসমা আজিজ, সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সুলতানা জেসমিন (জুঁই), মহিলা দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব নাসিমা আক্তার (কেয়া), খিলগাঁও মডেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক রোকেয়া চৌধুরী, ঢাকার কোতোয়ালি থানা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর সুরাইয়া বেগমসহ অনেকে প্রোফাইল (বৃত্তান্ত) তৈরি করে বিবেচনার জন্য বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নেতাদের কাছে পাঠিয়েছেন।
সাবেক ছাত্রদল নেত্রী সুলতানা জেসমিন বলেন, রাজনীতিতে শ্রম ও ঘামের সঙ্গে একাডেমিক কম্বিনেশন অর্থাৎ পড়াশোনা ও যোগ্যতার সমন্বয় দরকার।
ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী মনে করেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক নারী নেতা সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নিপুণ রায় আরও বলেন, আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং পূর্ববর্তী সময়ে মাঠে প্রদর্শিত ভূমিকা বিবেচনা করে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন।
একইসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীও সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি আইনজীবী সাবিকুন্নাহার, সহকারী সেক্রেটারি মার্জিয়া বেগম এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মারদিয়া মমতাজ।
নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের জানিয়েছেন, সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম নারীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। জামায়াতের জন্য এটি ত্রয়োদশ সংসদে সর্বোচ্চ নারী আসন অর্জনের সুযোগ।
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এবারের সংসদে মোট নারী সদস্য সংখ্যা ৫৭ জন যা ৩৫০ সদস্যের সংসদে প্রায় ১৬ শতাংশ।
এবার সংরক্ষিত নারী আসনগুলো নবীন ও প্রবীণ নেত্রীর মিশ্রণে বণ্টন করা হবে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা মনে করেন, তরুণ নেত্রীরাও গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং পূর্ববর্তী আন্দোলন-সংগ্রামের ভূমিকা বিচার করে মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে।
এদিকে এনসিপিও সংরক্ষিত নারী আসনে একজন মনোনয়ন দিতে পারবে। আলোচনায় আছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম (মিতু)।
নতুন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন এখনো ডাকা হয়নি তবে সরকারি গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন। তাদের মধ্যে জয়ী হয়েছেন ৭ জন, যাদের মধ্যে ৬ জন বিএনপি থেকে এবং ১ জন স্বতন্ত্র। সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন যুক্ত হলে সংসদে মোট নারী সদস্য সংখ্যা হবে ৫৭ জন।