বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর সংবাদ সম্মেলন -ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলেও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনে টিআইবি জানায়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের মোট দায় বা ঋণ ছিল ১ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। দশম সংসদে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা, একাদশ সংসদে ৬ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা এবং দ্বাদশ সংসদে ১০ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। সর্বশেষ ত্রয়োদশ সংসদে এই অঙ্ক আরও বেড়ে ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ সংসদের প্রায় অর্ধেক সংসদ সদস্যই দায় বা ঋণগ্রস্ত। দলভিত্তিক হিসেবে বিএনপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৬২ দশমিক ০২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই হার ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
সংসদ ভিত্তিক তুলনায় দেখা যায়, দায় ও ঋণগ্রস্ত সংসদ সদস্যের হার নবম সংসদে ছিল ৫৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ, দশম সংসদে ৫৬ দশমিক ০১ শতাংশ, একাদশ সংসদে ৫১ দশমিক ৩০ শতাংশ, দ্বাদশ সংসদে ৫২ শতাংশ এবং ত্রয়োদশ সংসদে তা কিছুটা কমে ৪৯ দশমিক ৮৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে টিআইবি জানায়, নির্বাচনে ৬৭.৩৪ শতাংশ নির্বাচিত সদস্যদের বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকার বেশি, কোটি টাকার বেশি আয় করেন ৪৮ জন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় ৯৯ শতাংশ প্রার্থী কোনো না কোনোভাবে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। এর মধ্যে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যবিহীন প্রচারণা সামগ্রী ব্যবহার, যানবাহনসহ মিছিল, মশাল মিছিল ও শো-ডাউন, পাঁচ জনের বেশি সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মতো অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানার বা ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা কিংবা নষ্ট করার ঘটনাও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
টিআইবির বলছে, আচরণবিধির মোট ৫৮টি বিষয়ে দলভিত্তিক প্রার্থীদের লঙ্ঘনের হার ছিল উল্লেখযোগ্য। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সব পক্ষের মধ্যেই এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, নির্বাচনের জন্য মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে দৈবচয়নের মাধ্যমে ৭০টি আসন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা এবং প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছিল। তবে একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে দলটির কিছু নেতাকর্মী ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অন্য দল ও প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, কিছু ক্ষেত্রে ভোট প্রদানের পাশাপাশি প্রচারণাতেও সক্রিয় ছিলেন।
এতে দেখা গেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে দল নির্বাচন বর্জন করলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের সমর্থকরা।
টিআইবি আরও জানিয়েছে, ২০৯ জন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় ৯৯ শতাংশ প্রার্থী নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে প্রচারণা সামগ্রী ব্যবহার, মিছিল ও শো-ডাউন, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পোস্টার বা ব্যানার নষ্ট করা ইত্যাদি।
সংস্থার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আচরণবিধির মোট ৫৮টি বিষয়ে দলভিত্তিক প্রার্থীদের লঙ্ঘনের হার ছিল উল্লেখযোগ্য। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেই এ ধরনের অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে।