বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও দলীয় সূত্র জানিয়েছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ৪০ এর কাছাকাছি হতে পারে।
সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রিসভায় নবীন ও প্রবীণ নেতাদের সমন্বয়ের পাশাপাশি জোটসঙ্গী দলের কয়েকজন প্রতিনিধি এবং একাধিক টেকনোক্র্যাট সদস্যও থাকতে পারেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ শপথের প্রস্তুতি হিসেবে ৪০ থেকে ৪২ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর তালিকা ধরে কাজ করছে। বর্তমানে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংখ্যা ৪৩টি।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। এরপর সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হবে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে আস্থা প্রাপ্তির বিষয়টি জানালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ ২৩ জন মন্ত্রী ও ১২ জন প্রতিমন্ত্রী রাখার সুপারিশ করেছিল। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৪৩ থেকে কমিয়ে ২৫-এ নামিয়ে আনার প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে বর্তমান প্রস্তুতি সে সীমার চেয়ে বড় আকারের মন্ত্রিসভার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৩৭ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রিসভার আকার ৪৯ থেকে ৬২ জন পর্যন্তও হয়েছে। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় সদস্যসংখ্যা ছিল ৬০।
দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি তরুণ নেতাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও বিবেচনায় আছে। যদিও চূড়ান্ত তালিকা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এছাড়া আলোচনায় আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
এ ছাড়া থাকতে পারেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। তরুণ নেতাদের মধ্যে আলোচনায় আছেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় নাম এসেছে নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহসহ কয়েকজনের। জোটসঙ্গী হিসেবে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুরের নাম শোনা যায়। তবে কারও নামই দায়িত্বশীল কোনো নেতা নিশ্চিত করেননি।
শপথ অনুষ্ঠানে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধান বা প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা উপস্থিত থাকতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
শপথের পর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এ উপলক্ষে স্মৃতিসৌধে অস্থায়ীভাবে সর্বসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে জাতীয় সংসদ ভবনেও নবনির্বাচিত সদস্যদের স্বাগত জানাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কাজ চলছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত করে প্রস্তুত করা হচ্ছে।