বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ফেনীতে স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দেওয়ায় বিবি জহুরা নামে এক গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর স্থানীয় জনতার তোপের মুখে পড়ে অভিযুক্ত ওই নেতা এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন কাওসার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং তিনি ওই এলাকার মৃত ইউসূফ হাজারীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্ত্রী বিবি জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেন কাওসার। তবে প্রথমবার ভোটার হওয়ায় জহুরা উৎসাহের সঙ্গে তিন সন্তানকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সে সময় কাওসার ঘুমিয়ে ছিলেন।
ভোট দিয়ে সকাল ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে স্বামীর জন্য নাশতা প্রস্তুত করেন জহুরা। পরে কাওসার ঘুম থেকে উঠে নাশতা খেয়ে কিছু সময় এলাকায় ঘোরাফেরা করেন এবং দুপুরে খাবার শেষে আবার বিশ্রাম নেন। বিকেলে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রীর ভোট দেওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি।
এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে মাগরিবের সময় স্ত্রীকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কাওসার। জহুরা তার জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার কথা স্বীকার করলে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দেন এবং বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে কাওসারকে আটক করে মারধর করেন। পরে স্ত্রীকে দেওয়া তালাক প্রত্যাহার করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আফছার জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জহুরাকে মারধর করতেন কাওসার। এ নিয়ে একাধিকবার সামাজিকভাবে বিচারও হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কাওসার মাদকাসক্ত।
জানা গেছে, ২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের মধুয়াই গ্রামের নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে কাওসারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮) ও ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।