বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখটি এক অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক স্থবিরতা এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই নির্বাচনে যুক্ত হয়েছে এমন সব উদ্ভাবনী ও আধুনিক ফিচার, যা দেশের ৫৪ বছরের নির্বাচনের ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার থেকে শুরু করে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব— প্রতিটি পদক্ষেপে ফুটে উঠছে এক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার সংকল্প। ব্যালট পেপার থেকে শুরু করে নিরাপত্তার চাদর, সবখানেই পরিবর্তনের ছোঁয়া। নির্বাচনী এই মহা-আয়োজনের যে ১৩টি বিশেষ আকর্ষণ পুরো বিশ্বের নজর কেড়েছে, সেগুলো হলো—
১. যুগপৎ নির্বাচন ও গণভোট : বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
২. আন্তর্জাতিক পোস্টাল ব্যালট ও অ্যাপ : প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো ‘Postal Vote BD’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। প্রায় ৭.৬ লাখ প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে।
৩. ডিজিটাল প্রচারণার যুগ : পরিবেশ রক্ষায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভৌত বা কাগজের পোস্টার নিষিদ্ধ করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও অনলাইন ভিত্তিক প্রচারণার নিয়ম করা হয়েছে।
৪. আওয়ামী লীগ বিহীন ব্যালট : দীর্ঘ দেড় দশক পর এই প্রথম সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে ছাড়াই দেশের অন্যতম বড় এই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
৫. উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব : গণভোটের মাধ্যমে সংসদকে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যেখানে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে ১০০ সদস্যের একটি ‘সিনেট’ বা উচ্চকক্ষ থাকবে।
৬. ‘না’ ভোটের প্রত্যাবর্তন : দীর্ঘ বিরতির পর ভোটারদের জন্য আবারও ব্যালট পেপারে ‘না’ (No Vote) অপশন ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
৭. অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বাহিনী : ভোটারদের আস্থা ফেরাতে সেনা, বিজিবি ও পুলিশসহ প্রায় আট লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
৮. তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী : রংপুর-৩ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম রানী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের একটি বড় উদাহরণ। যদিও প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে গত ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
৯. সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব : জামায়াতে ইসলামীসহ একাধিক দল এবার সরাসরি হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে।
১০. তরুণ নেতৃত্বের উত্থান : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের নিয়ে গঠিত ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (NCP) প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তরুণ প্রজন্মের নজর কেড়েছে।
১১. অনলাইন নমিনেশন ও স্ক্রুটিনি : প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা এবং বাছাইয়ের প্রক্রিয়া প্রায় সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়েছে।
১২. স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও বিশেষ স্টিকার : প্রতিটি কেন্দ্রে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের পাশাপাশি পোস্টাল ভোটের জন্য বিশেষ কিউআর কোডযুক্ত স্টিকার ও খাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
১৩. নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ও অ্যাপ : আনসার বাহিনীর ‘সুরক্ষা অ্যাপ’ এবং ভোটকেন্দ্রের তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সফটওয়্যার এবারের নির্বাচনের যান্ত্রিক আধুনিকায়নের প্রতীক।