বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি: সংগৃহীত
আজ শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। প্রথমবারের মতো খেলছে না বাংলাদেশ। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তোপের মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে খেলতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। আইসিসিতে শ্রীলঙ্কায় খেলার দাবি জানালেও সেটি মানেনি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। অনড় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশকে তাই বাদ দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে স্কটল্যান্ডকে।
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সেই প্রথম দিনে মাঠে নামার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। কিন্তু নিরাপত্তা শঙ্কা ও রাজনৈতিক চাপের জেরে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বয়কট করেছে বাংলাদেশ।
এই সিদ্ধান্তে প্রায় ৩০ বছর পর কোনো বড় বৈশ্বিক ক্রিকেট আসর বসছে বাংলাদেশ ছাড়া। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাংলাদেশকে ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াডে নিলেও পরে চাপে পড়ে তাঁকে দল থেকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরপরই ভারতের পরিবেশকে অনিরাপদ দাবি করে ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
তবে আইসিসি তাদের স্বাধীন মূল্যায়নে কোনো যাচাইযোগ্য হুমকি না পাওয়ার কথা জানিয়ে বিসিবির অনুরোধ ফিরিয়ে দেয়। আলোচনার শেষ প্রান্তে এসে তারা বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে সুযোগ দেয় র্যাংকিংয়ের ১৪তম দল স্কটল্যান্ডকে।
২০০৭ সালের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে এ পর্যন্ত প্রতিটি আসরে খেলেছে বাংলাদেশ। ফলে এবারের বাদ পড়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা ক্রিকেটার ও সমর্থকদের।
আইসিসি সভায় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো একমাত্র দেশ ছিল পাকিস্তান। শুরুতে তারা জানিয়েছিল, বাংলাদেশের দাবি না মানলে তারাও বিশ্বকাপ বর্জন করবে। কিন্তু পরে সরকারিভাবে অবস্থান বদলে পাকিস্তান জানায়—তারা বিশ্বকাপে খেলবে, তবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে নামবে না।
ফলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুরোপুরি একা হয়ে পড়ে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তে।
বাংলাদেশ খেলছে না তবে দেশের প্রতিনিধিত্ব থাকছে অন্য ভূমিকায়। আইসিসির এলিট প্যানেল আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকত আবারও দায়িত্ব পালন করবেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। প্রথমবারের মতো আম্পায়ারিং করছেন গাজী সোহেল। ধারাভাষ্য দলের সদস্য হিসেবেও থাকছেন আতহার আলি খান।
২০০৭ সালে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসর থেকে এখন পর্যন্ত নয়টি আসরে বাংলাদেশ উপস্থিতি ছিল। কিন্তু দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে এবার কেবল দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে।
ওভারঅল বিশ্বকাপ হিসেব করলে বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বকাপ হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। সময়ের হিসেবে প্রায় ৩০ বছর। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলে। এরপর যত বারই এই বৈশ্বিক ইভেন্ট মাঠে গড়িয়েছে, সবকটিতেই অংশ নিয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
ভারতে না গিয়ে বাংলাদেশ দল খেলছে মিরপুরে, তিন দলের অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপে ধুমকেতু নামে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াড। অথচ আজ কলকতায় ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে বেলা তিনটায় মাঠে নামার কথা ছিলো লিটন দাসদের। তবে চিত্রনাট্য পাল্টে গেছে, বাংলাদেশকে বাইরে রেখে সুযোগ করে দেয় র্যাংকিংয়ে ১৪তম দল স্কটল্যান্ডকে। এতে করে বিশ্বকাপ হারিয়েছে এর সার্বজনীন গুরুত্ব।
আইসিসি’র সভায় বাংলাদেশ একমাত্র পাশে পেয়েছিল পাকিস্তানকে। শুরুতে পাকিস্তান বলেছে, বাংলাদেশের দাবি মানা না হলেও তারা বিশ্বকাপ বয়কট করবে। যদিও পরে সে অবস্থান থেকে সরে আসে পাকিস্তান। দেশের সরকার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না।
বিশ্বকাপ খেলতে না পারার আক্ষেপ বয়ে বেড়াচ্ছেন ক্রিকেটাররা। যদিও সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল মনে করেন বিশ্বকাপ বিষয়টি অতীত হয়ে গেছে। ২০০৭ সালে প্রথমবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলের অধিনায়ক ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। কুড়ি ওভারের চারটি বিশ্বকাপ খেলা আশরাফুল এখন ভিন্ন দায়িত্বে। তার মতে বিশ্বকাপ নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই।
ক্রিকেটাররা এখন সামনে তাকিয়ে, এই বিষয়টা আসলে শেষ হয়ে গেছে। বিশ্বকাপ নিয়ে আর চিন্তা না করাই বেটার। আমরা এই টুর্নামেন্ট (অদম্য কাপ) নিয়ে আছি। এরপর জাতীয় নির্বাচনের পর বিসিএল হবে, সেটা নিয়ে ব্যস্ত থাকব। যখন প্লেয়াররা ব্যস্ত থাকে এগুলো নিয়ে চিন্তা করার সময়ও থাকে না।
বিশ্বকাপের প্রথম দিনে তিনটি ম্যাচ মাঠে গড়াবে। বেলা সাড়ে ১১টায় কলম্বোয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নেবে নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান। কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্কটল্যান্ড ম্যাচ মাঠে গড়াবে বেলা তিনটায়। এ ছাড়া সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মুম্বাইয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।
গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশের তিন ম্যাচই ছিল কলকাতায়। বাকি ম্যাচটি মুম্বাইয়ে। বাংলাদেশ খেলছে না বলে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে খেলাগুলোর টিকিট বিক্রিতে ধস নেমেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলেছে, টিকিটের লাইনে কোন লাইন নেই। কারই আগ্রহ নেই বিশ্বকাপকে ঘিরে! ইডেন গার্ডেন্সে সব মিলিয়ে ৬৫ হাজার আসন। এখনও পর্যন্ত ২১ হাজার টিকিটও বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছিল আনন্দবাজার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম স্কটল্যান্ড ম্যাচের টিকিট বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৯১৭টি। স্কটল্যান্ড-ইতালি ম্যাচে মাত্র ৩৪৮টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড ম্যাচে ২ হাজার ৭৫ টিকিট বিক্রয় হয়েছে। দুইদিন পর হয়তো টিকিট বিক্রয়ের সংখ্যটা একটু বাড়তে পারে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশ না যাওয়ায় বিশ্বকাপ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।