বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ডিবি পুলিশের হাতে আটক সন্দেহভাজন তথ্যদাতা।
রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পুরো ভবন ও আশপাশের এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালিয়ে কোনো ডাকাত বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আলামত মেলেনি; উল্টো বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে খোদ তথ্যদাতাকেই ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে ডিবি।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে বনশ্রীর সি-ব্লকের ২ নম্বর রোডে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ডিবি সূত্রে জানা যায়, ওই রোডের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে সশস্ত্র ডাকাত দল প্রবেশ করেছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির মতিঝিল বিভাগের প্রায় অর্ধশত সদস্যের একটি বিশেষ দল দুপুর পৌনে একটার দিকে পুরো বাড়িটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। সম্ভাব্য যেকোনো পালানোর পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করতে গলির প্রবেশমুখে একটি বালুভর্তি ট্রাক আড়াআড়ি করে রাখা হয় এবং রাস্তার দুই পাশেই যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বেলা সোয়া দুইটা পর্যন্ত ভবনের প্রতিটি অংশে নিবিড় তল্লাশি অভিযান চালানো হলেও ডাকাতির কোনো আলামত বা সন্দেহভাজন কাউকে পাওয়া যায়নি। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর যে ব্যক্তির দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই বিশদ অভিযান চালানো হয়েছিল, তাঁকেই সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক তথ্যদাতা নিজেও একজন দাগি অপরাধী এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অন্তত সাত থেকে আটটি ডাকাতির মামলা রয়েছে। একজন চিহ্নিত অপরাধী হয়ে তিনি ঠিক কী উদ্দেশ্যে এমন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেখানে অভিযান পরিচালনায় প্ররোচিত করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ ভারী অস্ত্রসহ পুলিশের একাধিক গাড়ি পুরো রাস্তা অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং একটি ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর হাতকড়া পরা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার বিষয়ে ডিবির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, ডাকাতির একটি সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। তবে তল্লাশি শেষে তথ্যের কোনো সত্যতা বা ডাকাতির আলামত পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া ব্যক্তিকে আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই সাজানো নাটকের মূল উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন করা হবে।