বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে বক্তব্য রাখছেন বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী
সাংবাদিকদের চূড়ান্ত দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি একমাত্র সাধারণ জনগণের কাছেই, অন্য কারও কাছে নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে (এনআইএমসি) মফস্বল সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে আয়োজিত ‘সাংবাদিকতা, ভিডিও সাংবাদিকতা ও মোবাইল সাংবাদিকতা’ শীর্ষক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, একজন সাংবাদিককে পুরোপুরি স্বাধীন, আপসহীন, সত্যনিষ্ঠ ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে হবে। সাংবাদিকতার প্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের একমাত্র মূলমন্ত্র হলো জনগণের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা এবং কোনো পরিস্থিতিতেই অসত্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রওনক জাহান। কর্মশালাটির সঞ্চালনা করেন পরিচালক (প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান) ড. মো. মারুফ নাওয়াজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (প্রশিক্ষণ প্রকৌশল) পারভীন সুলতানা রাব্বী, উপপরিচালক (বেতার অনুষ্ঠান) মো. আবুজার গাফফারীসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিকবৃন্দ।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা মূলত সমাজের নানা ঘটনা ও তথ্যের বস্তুনিষ্ঠ সংগ্রহ এবং তা গণমাধ্যমে নিখুঁতভাবে উপস্থাপনের একটি পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া। সংগৃহীত প্রতিটি তথ্য নির্ভুল ও সত্য কি না, তা যাচাই-বাছাই করাই একজন গণমাধ্যমকর্মীর মূল দায়িত্ব। তিনি স্পষ্ট করেন, সাংবাদিকতার প্রধানতম লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষকে দেশ ও বিদেশের সঠিক পরিস্থিতি অবহিত করা, সমাজের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ করে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
সাংবাদিকদের দ্বিধাহীনভাবে ‘সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো’ বলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এটি মূলত সত্যের সাধনা। সত্য ও মিথ্যার আপসকামিতায় কখনো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা হতে পারে না। একজন গণমাধ্যমকর্মীর পেশাগত গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে তাঁর নির্ভুল ও নিরপেক্ষ পরিবেশনার ওপর। একই সঙ্গে পেশাগত গভীরতা বাড়াতে নিয়মিত বই ও সংবাদপত্র পাঠের বিকল্প নেই বলেও তিনি মত দেন।
সাংবাদিকদের ‘জাতির বিবেক’ হিসেবে অভিহিত করে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কঠোর বার্তা দেন যে, কোনো অবস্থাতেই বিবেকের সঙ্গে প্রতারণা করা যাবে না। রাজনৈতিক আনুগত্য বা ব্যক্তিস্বার্থে কোনো দলের ক্রীড়নক বা ‘পেট ডগ’-এ পরিণত না হয়ে সমাজের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, জনগণ দলকানা ও তাঁবেদারির সাংবাদিকতাকে মন থেকে ঘৃণা করে।
সংবাদমাধ্যমকে ‘জনগণের নিরবচ্ছিন্ন সংসদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সংবাদপত্র এমন এক পার্লামেন্ট, যার অধিবেশন কখনো মুলতবি হয় না। তিনি একটি চমৎকার রূপক তুলে ধরে বলেন, এই সংসদের সাংবাদিকরা হলেন নিয়মিত পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থী, আর প্রতিদিন তাঁদের লেখা প্রতিবেদন ও বস্তুনিষ্ঠতার মূল্যায়ন করেন দেশের ১৮ কোটি সাধারণ মানুষ। তাই জনসাধারণের প্রতি সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধ ও নৈতিক দায়বদ্ধতা অপরিসীম।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনলাইন নিউজ পোর্টালের কাজ অনেকটাই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যাটিংয়ের মতো। ইনিংসের শুরুতেই দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে খেলার লাগাম ধরতে হয়। প্রথম ওভার যদি ব্রেকিং নিউজ হয়, তবে পাওয়ার প্লে হলো সেই সংবাদের পূর্ণাঙ্গ ফলো-আপ ও গভীর বিশ্লেষণ। তবে গতিশীলতার প্রতিযোগিতায় নামতে গিয়ে তথ্যের বিশুদ্ধতা বিসর্জন দেওয়া যাবে না উল্লেখ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সংবাদ সবার আগে পরিবেশনের তীব্র চাপ থাকলেও কোনো অবস্থাতেই অসত্য, বিকৃত কিংবা অর্ধসত্য তথ্য প্রকাশ করা গ্রহণযোগ্য নয়।