বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম নতুন পর্যায়ে চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন এখনো না আসায় দেশজুড়ে হাজারো শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ষষ্ঠ পর্যায়ের কার্যক্রম ৩০ জুন ২০২৬ শেষ হওয়ার পর ১ জুলাই থেকে নতুন পর্যায়ে কার্যক্রম চালু হওয়ার কথা থাকলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সপ্তম পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) নতুন মেয়াদ শুরুর পরিকল্পনা রাখা হলেও প্রশাসনিক আদেশ জারি না হওয়ায় মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা পাচ্ছেন না। ফলে অনেক কেন্দ্রে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশু, কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্কদের নৈতিক শিক্ষা, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশে কাজ করে আসছে। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি বৃদ্ধি, সাক্ষরতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সচেতনতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং মাদক, বাল্যবিবাহ ও উগ্রবাদবিরোধী সচেতনতা তৈরিতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলায় প্রায় ৭ হাজার ৪০০টি শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলা, ইংরেজি, প্রাথমিক গণিত, ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং নাগরিক সচেতনতার ওপর পাঠদান পরিচালিত হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে সপ্তাহে পাঁচ দিন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাঠদান করেন শিক্ষকরা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, এখানে কর্মরত শিক্ষকদের বড় একটি অংশ নারী হওয়ায় এটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও ইতিবাচক অবদান রাখছে। বহু পরিবার এই প্রকল্পের আয়ের ওপর নির্ভরশীল।
এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায় ৩৩০ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৭ হাজার ৪০০ শিক্ষক এই প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নতুন প্রশাসনিক নির্দেশনা না থাকায় তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতেও নতুন ডিপিপি অনুমোদনের আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং সংশ্লিষ্টদের কর্মসংস্থানও নিরাপদ থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পের নতুন পর্যায়ের কার্যক্রম চালু করা হবে। এতে যেমন হাজারো শিক্ষক ও কর্মচারীর জীবিকার অনিশ্চয়তা দূর হবে, তেমনি শিশু ও গণশিক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।