বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রয়াত আবদুস সাদেক -ছবি : সংগৃহীত
আমি যে সময়ের কথা বলছি সে সময়ে বইমেলায় বের হতো একুশের সংকলন। এসব সংকলন বের করত মূলত স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা। নানান রকম সংকলন। সংকলনে বিভিন্ন ধরনের লেখা থাকত। দেশপ্রেম, একুশ, স্বাধীনতা এরকম বিষয় নিয়েই বেশি লেখা থাকত। এসব সংকলন একুশে ফেব্রুয়ারি সকালবেলা আমরা বিভিন্ন জায়গায় বিলি করতে চেষ্টা করতাম।
এই সংকলনের নির্দিষ্ট কোনো দাম ছিল না। যে যা পারে সেটাই দিতেন। সংকলনগুলো প্রকাশের জন্য কিছু টাকার প্রয়োজন হতো। আর এই টাকা সংগ্রহের জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞাপনের জন্য যেতাম। তখন এসব সংকলন বা একুশের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো একটা বরাদ্দ রাখত।
বিজ্ঞাপন সংগ্রহের সূত্র ধরেই আমার সঙ্গে আবদুস সাদেকের পরিচয়। আমাদের স্কুলবন্ধু হাবিবুর রহমান বাবলুর মামা হতেন। তিনি তখন একটা বড় কোম্পানির প্রধান হিসেবে কাজ করেন। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান অফিস ছিল বগুড়ায়। গুলিস্তানে ছিল তাদের সাব অফিস। সাদেক সাহেব বসতেন গুলিস্তান অফিসে। আমি বগুড়াতেও গিয়েছি। ঢাকার অফিসে গিয়ে তার সঙ্গে প্রথম আলাপ হলো। দেখেই আমি তাঁকে চিনে ফেললাম। কারণ পত্রিকায় মাঝেমধ্যে তার ছবি দেখতাম। তিনি যে চেয়ারে বসতেন ঠিক তার পেছনেই একটি ছবি ছিল তিনি হকিস্টিক হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আমি বুঝতে পারলাম বাবলুর এই মামা কোনো সাধারণ একজন মানুষ নন। তিনি যদিও এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সঙ্গে তিনি আমাদের হকির জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড়। হকি দলের অধিনায়কও ছিলেন। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে সাদেক মামার মতো একজন সজ্জন ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের জানাশোনা ছিল।
তিনি আমাদের এই একুশের সংকলনে পর্যাপ্ত বিজ্ঞাপন দিয়ে সাহায্য করতেন। আবার কখনো কখনো ব্যক্তিগতভাবেও তার সাহায্য পেয়েছি। তিনি যেমন খেলোয়াড় ছিলেন তেমনি ছিলেন শিল্প-সাহিত্য অনুরাগী। সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা ছিল বলেই আমরা যখনই তার কাছে যেতাম তিনি আমাদের নিরাশ করতেন না। বাবলুকে সঙ্গে নিয়ে যেতাম মামার কাছে। মাঝেমধ্যে তিনি আমাদের ‘খাবার দাবার’ দোকানে আসতেন। আমাকে স্নেহ করতেন। তার সঙ্গে তখন আসতেন প্রতাপ শংকর হাজরা, রফিকুল ইসলাম কামালসহ আরও অনেকেই।

আমরা জুনিয়র হওয়ার সুবাদে আদর করতেন। তারা আমাদের খেলাধুলার প্রতি জোর দিতে বলতেন। খেলাধুলা করলে শরীর ঠিক থাকে সেটাও বলতেন। সাদেক মামা লেখাপড়া করতেন আরমানিটোলা স্কুলে। তারপর তিনি ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। আমরা যে স্কুলে পড়তাম সেই স্কুলে মনির হোসেন নামে একজন শিক্ষক ছিলেন। মনির স্যারের সঙ্গে মাঝেমধ্যে আসতেন বিখ্যাত রেফারি ননী বসাক। তিনি প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা শবনমের বাবা। ননী বসাক এবং মনির হোসেন স্যার খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ধীরে ধীরে বাবলুর সম্পর্কটাই আমার সঙ্গে গড়ে উঠল।
আমিও আবদুস সাদেক সাহেবকে মামা ডাকা শুরু করলাম। নানান সময়ে নানান কাজে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। এর কারণ ছিল আমাদের খাবার দাবার পিঠাঘর যেহেতু গুলিস্তানে ছিল সেই সুবাদে সাদেক মামার সঙ্গে প্রায়ই দেখা হতো আমার। খুব হাসিখুশি মানুষ ছিলেন তিনি। দেখা হলেই বলতেন স্বাস্থ্যটা ঠিক রাখো খেলাধুলা কর। বাংলাদেশে হকি স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছিল ঢাকা স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে গুলিস্তান এলাকাতে। হকি স্টেডিয়াম কিংবা হকির যে উন্নয়ন হয়েছিল তার কৃতিত্বের দাবিদারদের অন্যতম ছিলেন সাদেক মামা অর্থাৎ আবদুস সাদেক।
২০ জুন তার চলে যাওয়ার সংবাদে মনটা ভীষণ ভারী হয়ে গেল। চোখ ছলছল করে উঠল আর চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই পুরোনো স্মৃতি। মামার অফিসকক্ষ, হকিস্টিক হাতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছবি। সাদেক মামা আপনার এই চলে যাওয়ায় আমরা ব্যথিত। দেশ একজন দক্ষ সংগঠক ক্রীড়াব্যক্তিত্বকে হারাল। আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।
লেখক : মিডিয়াব্যক্তিত্ব