বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

কক্সবাজারের টেকনাফে বহুল আলোচিত পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ উপস্থিত না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আজকের দিনটি পুনর্নির্ধারণ করেন। মামলায় মোট ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের সারবত্তা ও তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করবে।
মামলার মোট ১১ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে চারজন কারাগারে রয়েছেন। তাঁরা হলেন—কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে) আনোয়ার লতিফ খান।
অন্যদিকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মামলার অপর সাত আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
আইনি প্রক্রিয়া মেনে গত ২৫ আগস্ট পলাতক আসামিদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হাজিরার তারিখে গ্রেপ্তার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলেও পলাতক সাতজন আদালতে উপস্থিত হননি। ফলে আইনানুযায়ী আদালত তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন। এর আগে গত ২৬ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি আমলে নিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় টেকনাফের কিরণতলী এলাকার ‘হোটেল নেটং’-এর সামনের সড়ক থেকে টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে সাগরতীরে র্যাবের সাজানো তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তাঁকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে বেআইনি আটক, অপহরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নাটক সাজিয়ে হত্যা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ সংঘটনে সহায়তা, উসকানি এবং রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে হত্যার সরাসরি নির্দেশ প্রদানের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।