বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বয়স ও স্বাস্থ্যগত কারণ বিবেচনায় হাইকোর্ট থেকে পাওয়া সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের জামিন স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আগামী ২৬ অক্টোবর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের এই স্থগিতাদেশ আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে হাইকোর্ট বলেছেন, ৭৬ বছর বয়সি কাজী হাবিবুল আউয়াল বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তার বয়স, শারীরিক অসুস্থতা ও মামলার সামগ্রিক পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় আদালত তাকে জামিনের উপযুক্ত মনে করেছেন।
তবে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের (সিএমএম) সন্তুষ্টি সাপেক্ষে এবং আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখার শর্তে এই জামিন কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে মামলার বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাবিবুল আউয়ালের জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে আসামির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক, এস এম শাহজাহান ও সারা হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুল করিম মণ্ডল।
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, কাজী হাবিবুল আউয়াল প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অধিকাংশ ধারাই জামিনযোগ্য।
এছাড়া দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আমলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারা মোতাবেক সরকারের পূর্বানুমতি নেওয়ার যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা এ মামলায় মানা হয়নি বলে আদালতে জানান তারা।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের কড়া বিরোধিতা করে বলেন, আসামির বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতি ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ফলে তিনি জামিন পেলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়া কিংবা দেশত্যাগের ঝুঁকি তৈরি হবে।
পরে উভয় পক্ষের শুনানি এবং মামলার তদন্ত শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি আমলে নিয়ে হাইকোর্ট তার জামিন মঞ্জুর করে।
নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কারচুপি ও ভোট চুরির মাধ্যমে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার অভিযোগে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান (পিপিএম)।
মামলায় সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিগত তিনটি নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়।
এই মামলায় গত বছরের ২৫ জুন গ্রেফতার হন হাবিবুল আউয়াল। পরবর্তীতে বিচারিক আদালতে দফায় দফায় তার জামিন আবেদন খারিজ হলে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।