বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ফাইল ফটো
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তিসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় একটি সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করা হয়েছিল এবং এর ফলে সমান্তরাল সাংবিধানিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠার পথ উন্মুক্ত হয়েছিল বলে দাবি করেছেন রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আপিল বিভাগের শুনানিতে তিনি এসব যুক্তি তুলে ধরেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে প্রায় ছয় মাস বিরতির পর সোমবার মামলাটির শুনানি পুনরায় শুরু হয়। প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন।
শুনানিতে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে এমন কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল যা একটি সাংবিধানিক 'ভ্যাকুয়াম' বা শূন্যতার সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে তা কার্যত একটি সমান্তরাল সাংবিধানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার পরিস্থিতিও তৈরি করেছিল।
তিনি আরও বলেন, সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কয়েকটি বিধান যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে সংবিধানের মৌলিক বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতে আর সংশোধন করা যাবে না এমন বিধান সংযোজনও ছিল, যা সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে শরীফ ভূঁইয়া বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অভিশংসনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। পরবর্তী সময়ে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হওয়ায় বিচারপতিদের অপসারণ-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হয়। পরে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল করা হয়।
তিনি আদালতের কাছে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে আনা পরিবর্তন এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহালের বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়ারও অনুরোধ জানান। তার ভাষ্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আরও সুসংহত হবে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর রহমান হক। অপরদিকে আপিলকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ শিশির মনির।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিল করেন। তবে পুরো সংশোধনী বাতিল না করে আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, অবশিষ্ট বিধানগুলোর বিষয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন বা পরিমার্জনের উদ্যোগ নিতে পারবে।
হাইকোর্টের ওই রায়ের পর পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে রিটকারীরা আপিল করেন। একই মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথক আপিল দায়ের করেন। বর্তমানে তিনটি আপিলের ওপর একসঙ্গে শুনানি চলছে।