বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

সোমবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয় -ছবি : সংগৃহীত
পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে বড় শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ খাতে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পুনর্ব্যবহারের প্রতিটি ধাপে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়মিত সরিয়ে নেওয়া এবং তা পরিবেশসম্মত উপায়ে পুনর্ব্যবহারের লক্ষ্যে এ চুক্তি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, ইতোমধ্যে চার শতাধিক শিক্ষার্থী ব্যবহৃত প্লাস্টিক জমা দিয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এ ব্যতিক্রমী কার্যক্রম শুরু করে জেলা প্রশাসন। চিড়িয়াখানার নিয়মিত প্রবেশমূল্য ৭০ টাকা হলেও ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম ব্যবহৃত প্লাস্টিক জমা দিয়ে বিনা মূল্যে প্রবেশ করতে পারছে।
জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্যোগটি চালুর পর বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকেই প্লাস্টিক সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সংগৃহীত প্লাস্টিক কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছেন অনেকে। তবে এ ধরনের বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার প্রতিষ্ঠান দেশে পর্যাপ্ত না থাকায় সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো কঠিন হচ্ছে।
তিনি বলেন, মানুষ যদি নিয়মিতভাবে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সংগ্রহ করে, তাহলে এই বর্জ্যকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতে একটি বড় শিল্প খাত গড়ে তোলা সম্ভব।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জমা হওয়া প্লাস্টিক সংগ্রহ, পৃথকীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে পুনর্ব্যবহারের দায়িত্ব পালন করবে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ। এ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন ও প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে কোনো আর্থিক লেনদেন হবে না। প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য এ সমঝোতা কার্যকর থাকবে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি পাঠান মো. সাইদুজ্জামান। অন্যদিকে ইপসার পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (অর্থ) পলাশ কুমার চৌধুরী।

শিক্ষার্থীদের প্লাস্টিক সংগ্রহে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জেলা প্রশাসক বলেন, চিড়িয়াখানায় প্রবেশের ৭০ টাকা অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই দেওয়া সম্ভব। তবে প্লাস্টিক সংগ্রহ করে জমা দেওয়ার মাধ্যমে তারা পরিবেশদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাচ্ছে। এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, সমঝোতা স্মারকটি পরিসরে ছোট হলেও এর মাধ্যমে সমাজ ও পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির সুযোগ রয়েছে। প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা বাস্তবসম্মত না হলেও এর সঠিক ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার এবং নিরাপদ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পাটসহ পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ইপসার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, চিড়িয়াখানার বাইরেও এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে প্লাস্টিক সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব হবে।
এদিকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে আরও সবুজ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রায় ১৫০টি ডাবগাছ রোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, চিড়িয়াখানায় সাদা বাঘসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন নতুন প্রজাতি যুক্ত হওয়ায় দর্শনার্থীদের কাছে এর আকর্ষণ বাড়ছে।

শিশু-কিশোরদের চিড়িয়াখানা পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পশুপাখি দেখার পাশাপাশি শিশুদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। মুঠোফোনের পর্দায় সময় কাটানোর পরিবর্তে বাস্তব পরিবেশে ঘুরে বেড়ানো ও শেখার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন। এ বার্তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ জেলা প্রশাসন ও ইপসার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।