বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯)
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান পরিকল্পনাকারী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসামিদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রোববার বেলা তিনটার দিকে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে বিজ্ঞ বিচারক তাঁদের স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করেন। জবানবন্দিতে আসামিরা অপ্রতিমকে হত্যার দায় সরাসরি স্বীকার করেছেন।
আসামিদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার সানন্দা (মৈশান বাড়ি) এলাকার বাসিন্দা। তিনি কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ২০২৫ সালে পড়ালেখা ছেড়ে দেন। পুলিশ তাঁকে এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বাকি দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর (১৫ ও ১৬ বছর), যাদের একজন সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং অপরজন আদর্শ সদর উপজেলার হাতিগাড়ার বাসিন্দা।
এর আগে শনিবার মধ্যরাতে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরকে হেঁটে যেতে দেখে পুলিশ প্রথমে তুহিনকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যে বাকি দুই কিশোরকে শনিবার রাতে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতিমের মায়ের ব্যবহৃত দামি আইফোনটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই কিশোরটিকে সুকৌশলে লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গলে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় অপ্রতিম শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুললে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। শনিবার রাতে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়ির শোবার ঘরের তোশকের নিচ থেকে ছিনতাই হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত অপ্রতিম স্থানীয় কোটবাড়ি বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। গত শুক্রবার বিকেলে বাসা থেকে ছবি তোলার কথা বলে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন লালমাই পাহাড়ের নির্জন ঝোপঝাড় থেকে তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।