বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যানজট কমাতে সৈকতঘেঁষা একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ সড়ক চালু হলে পর্যটন এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় গতি আসার পাশাপাশি যানজটও অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে কলাতলী বেইলি হ্যাচারি পর্যন্ত প্রায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর প্রথম ধাপে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে কলাতলী মোড় পর্যন্ত ১ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ২৪ মিটার প্রশস্ত সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
কক্সবাজার পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ‘নগর উন্নয়ন ও নগর শাসন প্রকল্প’-এর আওতায় সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পে অর্থায়ন করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই)। ২০২৭ সালের ৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
থাকবে ওয়াকওয়ে ও আধুনিক সুবিধা
নতুন সড়কটি শুধু যান চলাচলের বিকল্প পথ হিসেবে নয়, পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের নকশায় দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে, আধুনিক স্ট্রিট লাইট, পরিচ্ছন্নতা সুবিধা, পার্কিং ব্যবস্থা এবং সৈকতে প্রবেশের জন্য সিঁড়ি রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ফলে সড়কটি চালু হলে পর্যটকদের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি সৈকত এলাকায় হাঁটা ও অবসর কাটানোর সুযোগও বাড়বে।
কমবে কলাতলীর চাপ
কক্সবাজারে প্রতিবছর দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। পর্যটকদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যাও। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে কলাতলী ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে পর্যটন জোনের চলাচল অনেকটাই একটি প্রধান সড়কনির্ভর। নতুন সৈকত সড়ক চালু হলে প্রধান সড়ক ও বিকল্প সড়কে পৃথকভাবে একমুখী যান চলাচলের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে কলাতলী সড়কের ওপর চাপ কমবে।
একই সঙ্গে মেরিন ড্রাইভমুখী যানবাহনগুলো মূল শহর এড়িয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে পারবে। ফলে পর্যটন এলাকার যানজট নিরসনে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাড়বে মেরিন ড্রাইভের পর্যটন সম্ভাবনা
মেরিন ড্রাইভ এলাকায় ইতোমধ্যে হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন পর্যটন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তবে যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এ অঞ্চলের সম্ভাবনার পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
তাদের মতে, নতুন সড়কটি মেরিন ড্রাইভের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত হলে পর্যটকদের চলাচল সহজ হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে নতুন পর্যটনকেন্দ্রিক বিনিয়োগের সুযোগও বাড়তে পারে।
উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের বিষয়েও নজর
সৈকতের বালিয়াড়ি এলাকায় সড়ক নির্মাণ হওয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবেশবাদীদের একটি অংশের আশঙ্কা, যথাযথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে বালিয়াড়ি ও স্থানীয় প্রতিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়েই সড়ক নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি। তবে উন্নয়নের পাশাপাশি সৈকতের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় কঠোর নজরদারি থাকতে হবে।
নতুন এ সড়কটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ শেষ করে চালু করা গেলে কক্সবাজারের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা কমানোর পাশাপাশি পর্যটন অবকাঠামোয়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা।